Bartaman Logo
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

বর্ধমানের প্রায় ২০ চিকিৎসকের ডিগ্রি সন্দেহের তালিকায়, চাঞ্চল্য

বর্ধমানের অন্তত ২০জন ‘ডাক্তার’ সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন

বর্ধমানের প্রায় ২০ চিকিৎসকের ডিগ্রি সন্দেহের তালিকায়, চাঞ্চল্য
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমানের অন্তত ২০জন ‘ডাক্তার’ সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের কেউ আট মাস আগেও ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান ছিলেন আবার কেউ চিকিৎসকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন। তাঁরাই এখন নামের পাশে বড় বড় করে লিখছেন ‘ডাক্তার’। কয়েকজন আবার আর্টস বা কমার্সে পড়াশোনা করেছেন। হঠাৎ করে তাঁরা কীভাবে এমডি বা এমএস হয়ে গেলেন তা ভেবেই তাঁদের এক সময়ের সহকর্মীরা কূলকিনারা পাচ্ছেন না। আফশোস করে তাঁরা বলছেন, ‘ইস, হক’কে ৬০ লক্ষ টাকা দিতে পারলে আমরাও না পড়াশোনা করে ডাক্তার হয়ে যেতে পারতাম।’ হক তাঁদের প্রায় প্রত্যেককেই ডাক্তার হওয়ার অফার দিয়েছিল। 

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, একটি তালিকা ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই তালিকার বাইরে আরও যাঁরা রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, কোনও ভুয়ো ডাক্তার ছাড় পাবেন না। তাঁদের জেলে যেতে হবেই। কেউ রক্ষা পাবে না।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিস্ট্রেশন বিক্রির মূল মাথা ছিলেন বর্ধমানের হক। সে এখন মোবাইল বন্ধ করে উধাও হয়ে গিয়েছে। সে যাদের ‘ডাক্তার’ তৈরি করে দিয়েছে তারাও এখন অন্তরালে রয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘ধাওয়ান’ নামে এক ব্যক্তি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে খোসবাগানে রমরমিয়ে প্র্যাকটিস করতেন। একইভাবে এক সময়ের টেকিনিশিয়ান এখন ডাক্তার পরিচয় দেওয়া ‘দেব’ নামের এক ব্যক্তিও সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন। উল্লাসের একটি জায়গায় প্রাকটিস করা ‘দে সরকার’ও স্ক্যানারে রয়েছেন। ‘কাসু’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকাও আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। অনেকেই দাবি করছেন, তাঁরা রাশিয়া, আমেরিকা, চীন, বাংলাদেশ থেকে ডাক্তারি পাশ করেছেন। তাঁদের অনেকের নথি নিয়েও আধিকারিকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। 
বিজেপি নেতা মৃতুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আর্টস বা কর্মাসের পড়ুয়ারা কোন ক্ষমতাবলে ডাক্তার হয়ে উঠেছেন সেটাই বুঝতে পারছি না। কয়েকজনের তালিকা স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা করেছি। তাঁরা কেউ বিজ্ঞানের ছাত্রই ছিলেন না। আধিকারিকরা তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত শেষ হলে একে একে অনেককেই জেলে যেতে হবে। তবে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে এসে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার হয়েছেন। তাঁদের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রেসক্রিপশনে যাঁরা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখছেন না, তাঁরা তো সন্দেহের চোখে থাকবেন। যাঁরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের নার্সিংহোমে শিশুমৃত্যুর পরই ভুয়ো ডাক্তারি চক্রের বিষয়টি সামনে আসে। পুলিশ ওই ঘটনার তদন্তে এক চিকিৎসক এবং চিকিৎসক পরিচয় দেওয়া আর এক ব্যক্তিকে থানায় ডেকেছিল। তাঁরা হাজির হন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কড়া পদক্ষেপ না করায় অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, আদৌ অভিযুক্তরা শাস্তি পাবে তো?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ