নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের প্রকাশ্যে বঙ্গ বিজেপি গোষ্ঠী কোন্দল। সেই কোন্দলে রেহাই পেলেন না প্রধানমন্ত্রীও। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি দেওয়া ফ্লেক্সের উপর রাজ্য নেতাদের নিয়ে নোংরা পোস্টার পড়ল। কেন্দ্রীয় সরকারের ১১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জেলায় জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। উত্তর কলকাতা শহরতলি জেলায় এমনই কুৎসিত পোস্টার সাঁটা হল, যা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সংশ্লিষ্ট পোস্টারে জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় ও রাজ্য সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ তোলা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই দুই নেতাকে তৃণমূলের দালাল বলে তোপ দেগেছে বিজেপির একাংশ। পাশাপাশি একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনকী টাকা, নারী ও গাড়ির বিনিময়ে পদ পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। অবিলম্বে এই দুই অভিযুক্ত নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে পার্টির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার দাবি উঠেছে দলের অন্দর থেকে। এ বিষয়ে চণ্ডীচরণ রায় ও দীপাঞ্জন গুহের প্রতিক্রিয়া নিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁদের ধরা যায়নি। পোস্টার সাঁটার এই ঘটনা ঘটেছে উওর কলকাতা শহরতলির জেলা কমিটির অফিসের পাশে। মোদির মুখের উপর এই পোস্টার পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য কমিটির এক পদাধিকারী বলেন, দীপাঞ্জন গুহের বিরুদ্ধে আগেও বহুবার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে দলের এক পরাজিত এমপি গত বিধানসভা ভোটে দীপাঞ্জনের বিরুদ্ধে ‘পিছন থেকে ছুরি’ মারার অভিযোগ তুলেছিলেন। নিজে বিধানসভা ভোটে টিকিট নিয়ে গোহারা হেরেছেন। অন্যদিকে, চণ্ডীচরণ রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত দুই নেতাই নিজেদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেন। সূত্রের দাবি, সঙ্ঘের হেড কোয়ার্টার কেশব ভবনে তাঁদের যাতায়াত রয়েছে। কেশব ভবনের এক অধিকারিকের দাবি, দীপাঞ্জনের বিরুদ্ধে প্রাক্তন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সঙ্ঘ নেতা শিবপ্রকাশ অভিযোগ করেছিলেন। সবটাই নজরে রাখা হচ্ছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান ওই সঙ্ঘ আধিকারিক। এপ্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাতে বলেন, পোস্টার মেরে ক্ষোভ জানানো চলবে না। যা বলার, তা দলের মধ্যেই বলতে হবে।



