Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জনতার ধাওয়া খেয়ে পুরুলিয়া থেকে পালিয়ে ঝাড়খণ্ডের গ্রামে হরিণের মৃত্যু

কয়েকদিন আগে হরিণটি ঢুকে পড়েছিল লোকালয়ে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষের অতি উত্সাহ ও বনদপ্তরের কর্মীদের গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হল সেই হরিণের।

জনতার ধাওয়া খেয়ে পুরুলিয়া থেকে পালিয়ে ঝাড়খণ্ডের গ্রামে হরিণের মৃত্যু
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কয়েকদিন আগে হরিণটি ঢুকে পড়েছিল লোকালয়ে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষের অতি উত্সাহ ও বনদপ্তরের কর্মীদের গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হল সেই হরিণের। এমনই অভিযোগ পরিবেশপ্রেমীদের। শুক্রবার পুরুলিয়া-১ ব্লকের ডিমডিহা পঞ্চায়েতের কানালি গ্রামের অদূরে ঝাড়খণ্ডের ফুসরো গ্রামে ওই পূর্ণবয়স্ক হরিণটির দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে।

Advertisement

গত সোমবার পুরুলিয়া-১ ব্লকের রুদড়া গ্রামে ওই পূর্ণবয়স্ক হরিণটি ঢুকে পড়েছিল। উত্সাহী জনতা হরিণটিকে দেখে ধাওয়া করতে থাকে। হরিণটি ভয় পেয়ে গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়ি ঢুকে পড়েছিল। কিন্তু, তাতেও নিস্তার পায়নি বন্যপ্রাণটি। উত্সাহী জনতা পাশের বাড়ির ছাদে উঠে চিত্কার করতে থাকে। হরিণটি এতে আরও ভয় পেয়ে যায়। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরে। যদিও বনকর্মীদের আসার আগেই হরিণটি পালিয়ে যায়। জাতীয় সড়ক থেকে পুরুলিয়া-কোটশিলা ডবল লাইন টপকে কানালি গ্রামের দিকে চলে যায়। এরপর শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের চন্দনকেয়ারি থানা এলাকার ফুসরো গ্রামে হরিণটির দেহ উদ্ধার হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানিয়েছে, ওইদিন হরিণটি ফুসরো গ্রামে ঢুকে পড়লে সেখানেও সেটিকে দেখে ধাওয়া করতে থাকেন বাসিন্দারা। সেইসঙ্গে একদল কুকুরও হরিণটিকে তারা করতে থাকে। ভয় পেয়ে হরিণটি গ্রামের একটি কুয়োয় পড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় কুয়ো থেকে উদ্ধার করা হলেও হরিণটির মৃত্যু হয়। ঝাড়খণ্ডের বোকারোর ডিএফও রজনীশ কুমার বলেন, এই হরিণটিকেই কয়েকদিন আগে বাংলায় দেখা গিয়েছিল। হরিণটি কুয়োয় পড়ে যায়। সেখানে পড়ে ওর নাক, মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। দেহের ময়নাতদন্তও হয়েছে। রিপোর্টেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পরীক্ষিৎ মুদি বলেন, বনদপ্তরে খবর দেওয়া হলেও প্রায় ঘণ্টা চারেক পর বনকর্মীরা পৌঁছন। ফলে হরিণটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বনকর্মীরা যদি আগে পৌঁছাতেন, তাহলে হরিণটিকে বাঁচানো যেত।
শনিবার ময়নাতদন্তের পরে হরিণের দেহ দাহ করা হয়। তবে পুরুলিয়া বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। এতদিন ধরে হরিণটি লোকালয়ে ঘুরে বেড়ালেও কেন সেটিকে উদ্ধার করতে পারলেন না বনকর্মীরা? এনিয়ে দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, হরিণটিকে উদ্ধারে সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল। 
 ঝাড়খণ্ডের ফুসরো গ্রামে উদ্ধার মৃত হরিণ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ