Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধ ঘর, কিশোরীদের শক্তিবর্ধক ওষুধ খাইয়ে দেদার চলত নির্মম যৌন নির্যাতন, রাজস্থান থেকে রায়নায় ফিরেও আতঙ্কে নাবালিকা

বিক্রি করার আগে রাজস্থানে শক্তিবর্ধক ওষুধ খাওয়ানো হতো নাবালিকাদের

বন্ধ ঘর, কিশোরীদের শক্তিবর্ধক ওষুধ খাইয়ে দেদার চলত নির্মম যৌন নির্যাতন, রাজস্থান থেকে রায়নায় ফিরেও আতঙ্কে নাবালিকা
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিক্রি করার আগে রাজস্থানে শক্তিবর্ধক ওষুধ খাওয়ানো হতো নাবালিকাদের। একটি ঘরে বন্দি রেখে ক্রেতাদের ডাকা হতো। কেউ এক বছর, আবার কেউ পাঁচ বছরের চুক্তিতে নাবালিকাদের কিনে নিত। সম্প্রতি রাজস্থান থেকে উদ্ধার হওয়া গলসির নাবালিকার অভিজ্ঞতা এমনই। প্রায় দু’বছর আগে বিক্রি হয়ে যাওয়া রায়নার নাবালিকাকে সিবিআই উদ্ধার করে এনেছে। তাকে দু’বার বিক্রি করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া নাবালিকার দাবি, রাজস্থানে তাদের সঙ্গে যৌনদাসীর মতো ব্যবহার করা হতো। প্রতিবাদ করলেই অমানবিক অত্যাচার করা হতো। ক্রেতাদের হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে একবারের জন্যও কথা বলতে দেওয়া হতো না। ফোন হাতে নিলেই মারধর করা হতো।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জাল ছড়িয়ে রেখেছে। প্রেমের টোপ দিয়েই তারা নাবালিকাদের জালে জড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তারা সম্পর্ক তৈরি করে। কয়েকদিন চ্যাট করার পরই তারা দেখা করে। তারপরই মগজ ধোলাই করে রাজস্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের বিক্রি করে দেয়। গলসির এক নাবালিকাকে এভাবেই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে পুলিস তিন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে দু’জন রাজস্থানের বাসিন্দা। রায়নার নাবালিকাকে বিক্রির অভিযোগে সিবিআই পাঁচ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা সকলেই রাজস্থানের বাসিন্দা। 
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রাজস্থানে নাবালিকারা দু’ভাবে বিক্রি হয়। কেউ বিয়ে করার জন্য নাবালিকাকে কিনে নেয়। সেক্ষেত্রে তাকে একাধিক পুরুষের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় না। তবে তাদের কোনও ব্যক্তি-স্বাধীনতা থাকে না। ‘বরের’ কথা সকলকে মেনে চলতে হয়। অনেক সময় বয়স্ক লোকজনদের সঙ্গেও তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। মুখ বুজেই নাবালিকাদের সবকিছু সহ্য করতে হয়। তবুও বিয়ে করলে তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকে। কিন্তু, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যাদের কেনা হয়, তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার চলে। বহু পুরুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি করতে হয়। শক্তিবর্ধক ওষুধ খাইয়ে তাদের ক্রেতাদের সামনে ঠেলে দেওয়া হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাদের সুস্থ জীবন দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনও ছাত্রী আচমকা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা তার বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। তারা কোথায় রয়েছে, কী করছে, এজাতীয় তথ্য তাঁরা জোগাড় করছেন। এছাড়া, নাবালিকাদের নিয়ে স্কুলগুলিতে কর্মশালা করা হচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসার পর আরও নজরদারি বাড়ানো হবে।
পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, প্রতিটি ছাত্রীর উচিত পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। তারপর বিয়ের জন্য চিন্তাভাবনা করা উচিত। কম বয়সে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্তই সঠিক হয় না। ১৮ বছরের আগে বিয়ে করলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিস জানিয়েছে, নাবালিকারা নিজের ভুলেই বিপদে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকদিন পরিচয় হওয়ার পরই তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই ব্যাপারটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ