Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

সুগন্ধি মোমে ঘর সাজান

বাড়ি আপনি তাকেই বলবেন, যেখানে দিনের শেষে ফিরতে ইচ্ছে করে। ঘর তো সেটাই যা আপনার ক্লান্তির আশ্রয়। দিনভর দৌড়ঝাঁপ, ব্যস্ততা, গ্লানির রুটিনের পর যেখানে ফিরে মন ভালো হয়ে যায়, সেটাই তো আপনার সুখী গৃহকোণ।

সুগন্ধি মোমে ঘর সাজান
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাড়ি আপনি তাকেই বলবেন, যেখানে দিনের শেষে ফিরতে ইচ্ছে করে। ঘর তো সেটাই যা আপনার ক্লান্তির আশ্রয়। দিনভর দৌড়ঝাঁপ, ব্যস্ততা, গ্লানির রুটিনের পর যেখানে ফিরে মন ভালো হয়ে যায়, সেটাই তো আপনার সুখী গৃহকোণ। আবার আনন্দের মুহূর্তেও সেই ঘরই আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় নস্টালজিয়ায়। মন ভালো রাখতে নিজের ঘর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করেন অনেকেই। সামান্য ভোলবদলে ঘরের একঝলক টাটকা বাতাস হয়ে উঠতে পারে আপনার মনের যত্ন নেওয়ার সঙ্গী। ঘর সাজানোয় ব্যবহার করতে পারেন সুগন্ধি মোম। যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। মনঃসংযোগ বাড়াবে। আবার নিশ্চিন্ত ঘুমেরও সঙ্গী হবে।

Advertisement

বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি মোম বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আবার বাড়িতেও নিজের পছন্দ মতো মোম তৈরি করে নিতে পারেন। শুধু অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে, সাবধানে দেখে ব্যবহার করুন। তাছাড়া নিজের পছন্দের গন্ধ যা সুখস্মৃতি বয়ে আনে, তা ঘরে রাখতেই পারেন। ইন্টিরিয়র ডিজাইনার বিদিশা বসু বললেন, ‘ল্যাভেন্ডার গন্ধযুক্ত মোম ঘুমের সময় ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ মোমও ভালো। আসলে যে গন্ধের সঙ্গে আপনি ছোট থেকে পরিচিত, আপনার মন, মাথা যে গন্ধ সহজেই চিনে নিতে পারে, সেই ধরনের সুগন্ধি মোম বেডরুমে রাখতে পারেন। এটা ব্যক্তিবিশেষে বদলে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবে যে গন্ধ স্নায়ুকে আরাম দেয়, নির্ভার করে তোলে তা ঘরে রাখাই শ্রেয়।’
সাধারণত মরশুমি ফল বা ফুলের সঙ্গে বদলে যায় মনের আবহাওয়া। তীব্র গরমে বেলফুলের গন্ধ কারও ক্লান্তি দূর করে। কেউ বা শীতকালীন কমলা কোয়ার খোসার সুবাসে ফিরে পান আত্মবিশ্বাস। ফলে মরশুমি গন্ধে সাজিয়ে তুলুন ঘর। বিদিশার কথায়, ‘কয়েক মাস আগেও বাজার ভরে ছিল কমলালেবু, মুসাম্বিতে। এখনও খুঁজলে হয়তো পাবেন। এখন তো সারা বছরই সব কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায়। যদি বাড়িতে মোম তৈরি করেন, সেক্ষেত্রে মুসম্বি লেবুর পাল্প বের করে নিন। কমলালেবুর পাল্পও ব্যবহার করতে পারেন। সেটা গলানো মোমের মধ্যে দিয়ে দিন। একটা অ্যারোমা পাবেন। ডাইনিং বা রান্নাঘরে ব্যবহার করতে পারেন। আবার কর্পূরও ব্যবহার করতে পারেন মোমের মধ্যে। মেডিটেশনের জন্য এটা ভালো। যোগার সময়ও লিভিং রুমে রাখতে পারেন।’ 
লোশন বা ক্রিমেও ল্যাভেন্ডারের গন্ধ অনেকে পছন্দ করেন। এই সুবাস মনঃসংযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে মেডিটেশনের সময় ল্যাভেন্ডার গন্ধযুক্ত মোম পাশে রেখে দিন। ঘুমও ভালো হয়। ফলে বেডরুমেও রাখতে পারেন। সুগন্ধি মোমের তালিকায় লেমনগ্রাস অত্যন্ত জনপ্রিয়। মানসিক উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে এই গন্ধ। আবার মোমবাতিতে চন্দনের গন্ধ কারও খুব প্রিয়। মন শান্ত রাখতে সাহায্য করে। 
বাড়িতে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করে ফেলতে পারেন সুগন্ধি মোম। ইন্ডাকশন বা স্টোভে মোম গরম করে নিন। মোম সাদা রাখতে চাইলে এর মধ্যে কোনও রং যোগ করবেন না। আর রঙিন করতে চাইলে পছন্দের লাল, নীল, সবুজ, হলুদ রং মিশিয়ে নিন। যেকোনও অ্যারোমা অয়েল এতে যোগ করুন। এবার যে পাত্রে মোম তৈরি হবে, সেই পাত্রে গলানো মোম ঢেলে দিতে হবে। গরম অবস্থাতেই মোম নির্দিষ্ট পাত্রে ঢালতে হবে। ঠান্ডা হয়ে গেলে তৈরি আপনার পছন্দের সুগন্ধি মোম। বিদিশা বললেন, ‘প্যারাফিন ওয়াক্স শ্বাস নেওয়ার জন্য ভালো নয়। কারণ এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম থাকে। বিজ ওয়াক্স অনেক বেশি অর্গানিক। বিজ ওয়াক্স গলিয়ে নেবেন। তার মধ্যে কর্পূর দিয়ে একটা ট্রান্সপারেন্ট গ্লাসে রেখে দিন। এটা মশা তাড়াতেও কাজে দেয়।’ 
গরমের সন্ধেয় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে বসার দিনগুলো অনেকে আজও মনে করতে পারবেন। অথবা মোমবাতির আলোয় ঘুমোতে যাওয়ার আগে চিঠি লেখার একান্ত অবসরও মনে পড়বে অনেকের। যুগ বদলেছে। মোমবাতি এখন নিতান্ত শৌখিন রুচির পরিচয়। তা আর নিত্য প্রয়োজনের জিনিস নয়। তাও ফেলে আসা অতীত কখনও বহু সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়। সুগন্ধি মোমবাতিতে ঘর সাজানোর অভ্যেস তেমনই এক সম্ভাবনার হদিশ দেবে আপনাকে। 
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ