Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওয়ার্ডের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া পচাগলা মৃতদেহ কোনও রোগীর নয়, দাবি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপারের

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া পচাগলা মৃতদেহ কোনও রোগীর নয়। বৃহস্পতিবার  তদন্ত কমিটির বৈঠকের পর সাফ জানালেন হাসপাতালের সুপার।

ওয়ার্ডের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া পচাগলা মৃতদেহ কোনও রোগীর নয়, দাবি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপারের
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া পচাগলা মৃতদেহ কোনও রোগীর নয়। বৃহস্পতিবার  তদন্ত কমিটির বৈঠকের পর সাফ জানালেন হাসপাতালের সুপার। এ নিয়ে রহস্য আরও বেড়েছে। তাহলে ওই পচাগলা মৃতদেহ কোথা থেকে এল তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 

Advertisement

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, ওই ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালের রোগী নয়। আমরা তদন্ত করে দেখেছি। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরাতেও ওই ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখা যায়নি। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, হয়তো রোগীর পরিজনদের ভিজিটিং আওয়ারে ঢুকে পড়েছিল। ভবঘুরেও হতে পারে। আমরা পুলিসকে তদন্তে সব রকম সাহায্যে করছি। 
প্রসঙ্গত, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের ভিতরে বেশ কয়েকটি ঘর রয়েছে। সেগুলিতেও রোগীরা থাকেন। সেখানেই একটি পরিত্যক্ত স্টোর রুমে মৃতদেহটি পড়েছিল। বুধবার তা জানতে পারেন সবাই। কয়েকদিন ধরেই রোগীরা দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। কিন্তু গন্ধের উৎস বোঝা যাচ্ছিল না। ওয়ার্ডের বাইরে থেকে খোলা জানালা দিয়ে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন সবাই। তারপরেই শোরগোল শুরু হয়। কীভাবে ওয়ার্ডের ভিতরে পচাগলা মৃতদেহ এল, কীভাবে মৃত্যু হল, পরিচয় কী, রোগী না রোগীর বাড়ির কোনও আত্মীয়, এসব একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিস। 
হাসপাতালে ২৪টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। গত পনেরো দিন ধরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ওইরকম কোনও ব্যক্তিকে নাকি ওয়ার্ডে ঢুকতে দেখা যায়নি। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৫ জনের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাঁরা সবকিছু খতিয়ে দেখেন। কিন্তু কেউই বলতে পারছেন না ওই ব্যক্তি কোথা থেকে কীভাবে এলেন। নার্সিং স্টাফদের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিন সিপিএম-বিজেপি হাসপাতালে ডেপুটেশন দেয় সুপারকে। 
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের উপর মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার মানুষের একাংশ নির্ভরশীল। তাই প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় কর্মীদের। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতরে পচাগলা দেহ রইল বেশ কয়েকদিন ধরে। তা কারও নজরে এল না কেন, হাসপাতালের পুরুষ বিভাগের নার্সদের চোখ কীভাবে এড়িয়ে গেল, সে প্রশ্ন তুলছেন রোগীর আত্মীয় পরিজনরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ