Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের নির্দেশে নদীয়াতেও অতিরিক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ২৩ হাজারের বেশি অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু, তারপরেও গ্রামীণ এলাকায় প্রাইমারি স্কুলগুলি শিক্ষক ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত।

রাজ্যের নির্দেশে নদীয়াতেও অতিরিক্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ২৩ হাজারের বেশি অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু, তারপরেও গ্রামীণ এলাকায় প্রাইমারি স্কুলগুলি শিক্ষক ঘাটতির সমস্যায় জর্জরিত। অথচ শহর কিংবা শহরতলির প্রাথমিক স্কুলগুলিতে দেখা যায় ছাত্রের অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। স্বাভাবিকভাবেই স্কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষকের এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘদিন ধরে পঠন পাঠনের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এবার সেই সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। প্রতিটি জেলাকে জেলার মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষকদের পুনর্বিন্যাসের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত শিক্ষক এবং শিক্ষক ঘাটতির সংখ্যা প্রায় সমান সমান। অথচ প্রাইমারি স্কুলগুলি শিক্ষক অপ্রতুলতায় ভুগছে। সেই জন্য রাজ্য সরকার ২২টি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনও।

Advertisement

নদীয়ার ডিপিএসসির চেয়ারম্যান দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, আমাদের কাছে নির্দেশিকা এসেছে। আমরা সেইমতো কাজ করছি।‌ নদীয়া জেলায় আমরা ইতিমধ্যেই ‘থ্রি টিচার্স পলিসি› নিয়েছিলাম। সেইমতো আমরা কাজ করেছিলাম। এর ফলে জেলার প্রাথমিক স্কুলে পঠন পাঠন উন্নত হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর শিক্ষাদপ্তরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে, বিভিন্ন জেলায় যেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক আছেন, সেখান থেকে ঘাটতিপূর্ণ স্কুলে তাঁদের স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ২৩ হাজার ১৪৫ জন অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। আবার একইসঙ্গে ২৩ হাজার ৯৬২ জন শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। 
শিক্ষক মহলের দাবি, এর থেকেই স্পষ্ট যে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এতদিন ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল। শিক্ষকদের স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। শিক্ষক মহল মনে করছে, এই পুনর্বিন্যাস কার্যকর হলে রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত আরও সুষম হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
শিক্ষকমহলের কথায়, বর্তমানে প্রাথমিক স্কুলগুলির কোথাও একজন, কোথাও আবার দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। তা দিয়ে কোনওরকমে পঠন পাঠন চলছে। নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, তেহট্ট-১ ও ২, করিমপুর সার্কেলের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এই সমস্যা বেশি।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সেলের নবনিযুক্ত সভাপতি কিংশুক দাস বলেন, দলীয় নেতৃত্বকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার জন্য।‌ রাজ্য সরকার প্রাথমিকস্তরের শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটাতে নানা কাজ করছে। যার মধ্যে এটা অন্যতম। এর ফলে বহু প্রাথমিক স্কুল যেখানে এতদিন শিক্ষকের ঘাটতি ছিল, তা পূরণ হবে।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির শিক্ষক সেলের কনভেনর অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বহু স্কুল অনেক আগে থেকেই এই সমস্যায় ভুগছে। তবে দেখতে হবে এই বিষয়টি যাতে শাসকদলের শিক্ষকদের শহরের পুনর্বাসনের পদ্ধতি না হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে এই ধরনের বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ