সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ‘বর্তমান’-এর খবরের জেরে অবশেষে নড়েচড়ে বসল পুলিস প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু সংলগ্ন এলাকায় তিনটি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিল পুলিস প্রশাসন। শুক্রবার নবদ্বীপ থানার পক্ষ থেকে এই ক্যামেরাগুলি বসানো হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্বল গৌরাঙ্গ সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, সেতুর দু’ধারে ও সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর মানুষের আনাগোনা এবং অপরাধমূলক কাজকর্ম নজরে রাখতেই এই উদ্যোগ। এছাড়া, দুর্ঘটনা এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এবার থেকে সেগুলিও চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।
নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতুর উপরে দু’পাশে ও সংলগ্ন এলাকায় দিনের পর দিন বাড়ছে আড্ডা। বসছে গল্প-গুজবের আসর। এছাড়া, ঘোষপাড়া কালভার্ট থেকে গৌরাঙ্গ সেতু যাওয়ার রাস্তায় নেই কোনও আলোর ব্যবস্থা। সূর্য ডুবলেই নেমে আসে অন্ধকার। তারমধ্যে দিয়ে যানবাহন চালক থেকে শুরু করে পথচারীদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
মহিশুরা পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়া কালভার্টের তেমাথা মোড়ের কাছ থেকে গৌরাঙ্গ সেতু যাওয়ার রাস্তাটি নবদ্বীপ শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ। গৌরাঙ্গ সেতু থেকে নেমে এই রাস্তাটি দিয়ে একদিকে নবদ্বীপ ধাম স্টেশন, অন্যদিকে কোলেরডাঙা হয়ে শহরের ভিতরে ও শ্মশানঘাটে যাওয়া যায়। এছাড়া, নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে কালীনগর হল্ট স্টেশন। এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তার উপর বাইক বা চারচাকা দাঁড় করিয়ে রমরমিয়ে চলছে আড্ডার আসর। নবদ্বীপের পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশকিছু এলাকা থেকে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের ভিড় বাড়ছে। ফলে গৌরাঙ্গ সেতু থেকে ঘোষপাড়া মোড় হয়ে নবদ্বীপ শহর বা মহিশুরা পঞ্চায়েত যাওয়ার রাস্তায় যানবাহন নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নবদ্বীপ থানার আইসি জলেশ্বর তেওয়ারি বলেন, পুলিস সুপারের নির্দেশে আপাতত তিনটি সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, দুর্বল সেতু দিয়ে মাঝেমধ্যে অত্যধিক মালবাহী যেসব যানবাহন যাতাযাত করছে সেগুলি চিহ্নিত করা। পাশাপাশি, সন্ধ্যার পর এই সেতুর দু’দিকে অনেকে দাঁড়িয়ে থাকে। গৌরাঙ্গ সেতু এলাকায় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা এই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে জানতে পারব। ওই এলাকায় কোন অপরাধ হলে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করাও সম্ভব হবে।