Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে প্রণামী বাক্সের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটি করার সিদ্ধান্ত

দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে প্রণামী বাক্সের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটি করার সিদ্ধান্ত
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জৈষ্ঠ্যের দাবদাহ উপেক্ষা করেই প্রতিদিন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে উপচে পড়ছে ভিড়। বিকেলের পর মন্দিরে ঢোকার জন্য হাজার হাজার পুণ্যার্থীর লাইন পড়ছে। জগন্নাথ প্রভুর ‘নব আলয়’ দেখে মুগ্ধ পুণ্যার্থীরা প্রণামী দিতে একমাত্র প্রণামী বাক্সের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। গত সপ্তাহে ওই বাক্সে ৬লক্ষ ৭৫হাজার টাকা প্রণামী পাওয়া গিয়েছে। ৩০এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে উদ্বোধনের পর প্রণামী বাবদ মোট ১৭লক্ষ ২১হাজার টাকা জমা পড়েছে। তবে, মে মাসের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহের তুলনায় তৃতীয় সপ্তাহে বেশি প্রণামী জমা পড়েছে। এই মুহূর্তে ভক্তদের জন্য একটি প্রণামী বাক্স যথেষ্ঠ নয়। তাই মন্দির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরও সাতটি প্রণামী বাক্স রাখা হবে। স্টিলের প্রণামী বাক্সের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, দিন দিন প্রণামীর পরিমাণ বাড়ছে। আরও বেশি সংখ্যক পুণ্যার্থী প্রণামী জমা করছেন। একটি বাক্সে জমা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই আরও ছ’-সাতটি প্রণামী বাক্স রাখা হবে। মন্দির কর্তৃপক্ষ এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুহূর্তে প্রতিদিন গড়ে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে ৩৫থেকে ৪৫হাজার পুণ্যার্থীর ভিড় হচ্ছে। দিনের সবচেয়ে বেশি ভিড় হচ্ছে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে। ওই সময় ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিসকেও। প্রতিদিন ডিএসপি র‌্যাঙ্কের অফিসার ছাড়াও বিভিন্ন থানা থেকে দু’জন করে আইসি কিংবা ওসি সন্ধ্যায় মন্দিরে ডিউটিতে থাকছেন। পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য নিজেও প্রায়ই সন্ধ্যার সময় মন্দিরে যাচ্ছেন। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন। বিভিন্ন থানা থেকে পুলিস কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের পালা করে প্রভুর মন্দিরে ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। বুধবার সল্টলেক থেকে মন্দিরে এসেছিলেন রাজ্য সরকারে ক্ষুদ্র সেচদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার নিবিড়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। র‌্যাম্পে হুইল চেয়ারে মন্দিরে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত সেখান থেকে পড়ে যান নিবিড়বাবু। দীঘা জগন্নাথ মন্দির পুলিস ক্যাম্পের ইন-চার্জ দিলীপ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য পুলিস কর্মীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। নিবিড়বাবুর শ্যালকের স্ত্রী উৎপলা মুখোপাধ্যায় বলেন, জগন্নাথ মন্দির দেখার জন্য ৮৮বছর বয়সে এই গরমের মধ্যেও নিবিড়বাবু আসতে রাজি হন। এদিন পুলিস কর্মীদের সহযোগিতায় আমরা ভীষণভাবে সন্তুষ্ট। আগামী ৮জুন পর্যন্ত দীঘার প্রচুর হোটেল, গেস্ট হাউস পুরোপুরি বুকিং। দীঘা জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার হলিডে হোম রয়েছে। সেই হোমের ম্যানেজার দিলীপকুমার ভুঁইয়া বলেন, ৮জুন পর্যন্ত পুরো বুক। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে দীঘায় পর্যটক এবং জগন্নাথ ভক্তদের ভিড় অনেক বেড়েছে।  

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ