নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বর্তমানে শৈশব ও কৈশোর মোবাইলে বন্দি! খোলা আকাশের নীচে শিশু ও কিশোরদের খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায় না বললেই চলে। পড়াশোনার পর কার্টুন কিংবা মোবাইল গেম! এতেই সীমাবদ্ধ তাদের জীবন। ঘটনায় সিউড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষ কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন। শৈশব ও কৈশোরকে খোলা আকাশের নীচে ফিরিয়ে আনতে এবার পুরসভার তরফে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পার্ক তৈরির। তবে একটি নয়, পৃথক দু’টি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৃথক দু’টি পার্কেই বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য একাধিক খেলার সরঞ্জাম থাকবে। সেইসঙ্গে নানা ধরনের ফুলের গাছ দিয়ে গোটা পার্ক চত্বর সাজিয়ে তোলা হবে।
পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, শহরের ভিতরে বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য পুরসভার নিজস্ব কোনও পার্ক নেই। বিষয়টি আমাদেরও ভাবিয়ে তুলছিল। বর্তমান সময়ে বাচ্চারা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা সকলকে খোলা আকাশের নীচে ফিরিয়ে আনতে চাইছি। সেই লক্ষ্যে দু’টি পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অতি দ্রুত পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। আমাদের তরফে সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ শুরু হবে। পুর এলাকায় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোনও পার্ক নেই। ফলত এলাকার বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য সেভাবে নির্দিষ্ট কোনও স্থান নেই। এ নিয়ে সিউড়ি পুরসভার দরবারে একাধিক সময়ে নানা আবেদন এসেছে। অবশেষে পুর এলাকার বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য পার্ক তৈরিতে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হল। প্রথম পার্কটি পুরসভা চত্বরেই গড়ে তোলা হবে।
জানা গিয়েছে, পুরসভা চত্বরে চেয়ারম্যানের অফিসের পিছন দিকে জলাশয় রয়েছে। সেই জলাশয়টি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে তোলা হবে। জলাশয় সংলগ্ন এলাকা ঘিরে পার্কের রূপ দেওয়া হবে। সেখানে বাচ্চাদের বিনোদনের একাধিক খেলার সরঞ্জাম বসানো হবে। পুরসভার ১৮নম্বর ওয়ার্ডে বাচ্চাদের জন্য দ্বিতীয় বিনোদন-পার্ক তৈরি হবে। সেখানে জমি খোঁজার কাজ শেষ। পুরসভার তরফে ইতিমধ্যে জিএস কলোনির মাঠটিকে পার্কে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই মোতাবেক রিফিউজি ওয়েলফেয়ারের তরফে পুরসভাকে এনওসি(নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার তরফে জানা গিয়েছে, পার্ক দু’টি তৈরি করতে আনুমানিক ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ হবে। দু’টি পার্ক তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। পার্ক দু’টি দেখভালের দায়িত্ব পুরসভার হাতেই থাকবে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিনামূল্যেই বাচ্চারা পার্কে ঢুকতে পারবে। তারা যাতে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারে, সেক্ষেত্রে পার্ক দু’টি সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হবে। শহরের বাসিন্দা নীহা মজুমদার বলেন, শহরে সাজানো পার্ক হলে আমাদের সুবিধা হবে। তবে তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও করতে হবে।