Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল সংরক্ষণে দশকভর প্রচেষ্টা, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের প্রকাশনায় বিনপুরের লীলাবতী

পাথুরে মাটি ও ঘন জঙ্গলে ভরা বিনপুরে জলের অভাব ছিল চাষের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়

জল সংরক্ষণে দশকভর প্রচেষ্টা, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের প্রকাশনায় বিনপুরের লীলাবতী
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: পাথুরে মাটি ও ঘন জঙ্গলে ভরা বিনপুরে জলের অভাব ছিল চাষের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। প্রশাসনের উদ্যোগে এই অবস্থার পরিবর্তনে বৃষ্টির জল সংরক্ষণে জলাশয়, পুকুর তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি কিছু মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুকুর ও জলাশয় খননের কাজ করছেন। যেমন বিনপুর -২ ব্লকের ধোঁবাকুড়িয়া গ্ৰামের লীলাবতী মাহাত এক দশক ধরে স্থানীয় পুকুর ও জলাশয় খননের কাজ করে চলেছেন। কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রকের প্রকাশনায় জায়গা করে নিয়েছে জল সংরক্ষণে ওই মহিলার উদ্যমী এই ভূমিকা। লীলাবতী মাহাত বলেন, প্রথমে নিজের প্রয়োজনে পুকুর খনন করে চাষাবাদ শুরু করি। পরে স্থানীয় জমিকে চাষযোগ্য করার লক্ষ্যে গ্ৰামের মহিলাদের নিয়ে কাজ করতে থাকি। সেই লক্ষ্যপূরণে বহু সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থা পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। জলাশয় ও পুকুর খনন এখন এই এলাকায় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। 

Advertisement

বিনপুর -২ জেলার এক প্রত্যন্ত ব্লক। আদিবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা এটি।  জীবন নির্বাহের জন্য বাসিন্দারা এখানে জঙ্গলের শুকনো কাঠ, শালপাতা, কেন্দুপাতা সংগ্ৰহ করে বিক্রি করতেন। কখনও দিনমজুরের কাজে পড়শি ঝাড়খণ্ডে চলে যেতেন। পাথুরে মাটির কারণে চাষবাস বেশি হতো না। দীর্ঘ বাম জমানায় এলাকার মানুষের জীবন উপেক্ষা ও বঞ্চনায় কেটেছে। সেইসময় মাওবাদীদের প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে রাজ্যে পালাবদল হলে এলাকায় শান্তি ফেরে। ধীরে ধীরে শুরু হয় উন্নয়নের  কাজ। 
ধোঁবাকুড়িয়ার বাসিন্দা লীলাবতী নিজের গ্ৰামে প্রথমে ছোট পুকুর খুঁড়ে সবজি চাষ শুরু করেন। এরপর আরও পুকুর খোঁড়ার উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের তরফে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় লীলাবতীকে। গ্ৰামের মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে ছোট জলাশয় ও পুকুর খোঁড়া শুরু করেন। গ্ৰামবাসীদের মধ্যে অচিরেই যা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভুলাভেদা, এড়গোদা পঞ্চায়েত এলাকায় অসংখ্য জলাশয় ও ছোট পুকুর খোঁড়া হয়েছে। পুকুরের জমা জল সবজি ও ধান চাষে ব্যবহার হচ্ছে। গ্ৰামবাসীদের অনেকেই ছোট পুকুরে মাছ চাষ করছেন। কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রক লীলাবতীর এই কাজকে স্বীকৃতি দিয়েছে। মন্ত্রকের নিজস্ব প্রকাশনায় লীলাবতী জল সংরক্ষণের কাজ লিপিবদ্ধ হয়েছে।  জল সেবকের মতো পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন ওই মহিলা। 
ভুলাভেদার বাসিন্দা কবিতা পালের কথায়, আমাদের এলাকা আগে মরুভূমির মতো ছিল। বর্ষার জল ঢালু জমি হয়ে নীচে নেমে যায়। কিন্তু ছোট পতিত জমিতে জলাশয় ও পুকুর খননের জেরে বৃষ্টির জল জমে থাকছে। সেই জল দিয়ে সবজি চাষ করছি। লীলাবতী দি জলাশয় ও পুকুর খননে সাহস জুগিয়েছিলেন।
অপর বাসিন্দা নবীন হাঁসদা বলেন, এক দশক আগে এই এলাকার বাসিন্দারা কেউ বছরভর ধান ও সবজি চাষের কথা ভাবতে পারতেন না। এলাকার মহিলা লীলাবতী ও তাঁর সহযোগীরা এই মরু জমিকে উর্বর করে তুলেছেন। প্রশাসনের তরফেও এখন নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ