নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বছর পনেরোর মেয়ের রক্তের জন্য সাতদিন ধরে দেবেন মাহাত হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে হত্যে দিয়ে পড়ে আছেন মা। শুক্রবারও ব্লাড ব্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ‘এ পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত নেই। ডোনার জোগাড় হলে রক্ত মিলবে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি এখন ডোনার খুঁজতে ব্যস্ত। এই ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। রক্তের জন্য বহু রোগীর বাড়ির লোকজন হন্যে হয়ে ঘুরে মরছেন। কারণ, হাসপাতালের রক্তের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত একেবারেই নেই। ‘এ পজিটিভ’ গ্রুপের রক্তেও টান পড়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুসারে রোগীর পরিবারের সদস্যদের নির্দিষ্ট গ্রুপের ডোনার নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ইনচার্জ তাপসকুমার রায় বলেন, খানিকটা সংকট রয়েছে। বেশকিছু নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত মজুত নেই। তবে, প্রতিটি গ্রুপের রক্ত মজুতের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত একাধিক শিবির হতে চলেছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।
পুজোর মরশুমে রক্তদান শিবিরের আয়োজন সেভাবে হয় না। এই পরিস্থিতিতে রক্তের ভাঁড়ারে খানিকটা টান পড়া স্বাভাবিক বলেই কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি। যদিও পুরুলিয়াতে পুজোর মাসেও বেশকিছু রক্তদান শিবির হয়েছিল। এমনকী চলতি মাসের ৫ তারিখেও একটি শিবির থেকে বেশকিছু ইউনিট রক্ত হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে মজুত করা হয়েছিল। যদিও তা অপর্যাপ্ত। ফলে এই মুহূর্তে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ‘এ’ সহ ‘বি’ ও ‘এবি’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের ভাঁড়ার পুরোপুরি শূন্য ছিল। ‘ও নেগেটিভ’ গ্রুপের রক্ত মাত্র এক ইউনিট ছিল। পাশাপাশি ‘এ পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত মাত্র ৩ ইউনিট ছিল। ‘এবি পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত মজুত ছিল ৮ ইউনিট। তবে ‘বি’ এবং ‘ও পজিটিভ’ গ্রুপের রক্ত প্রায় ৮০ ইউনিট করে মজুত ছিল।
পুরুলিয়া-২ ব্লকের গোলামাড়া এলাকার বাসিন্দা বলেন, মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ওর রক্তের প্রয়োজন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত রক্তের জন্য যোগাযোগ করছি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডোনার লাগবে। এখন ডোনার খুঁজছি। সরাসরি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত পাইনি। কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে, রক্তদান শিবির থেকেই ভাঁড়ার পূর্ণ হবে। চলতি মাসের ১১, ১২, ১৪, ১৯, ২২ এবং ৩১ তারিখ একাধিক শিবির করা হবে। প্রতিটি শিবির থেকেই রক্ত এসে পৌঁছবে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে। তাতে রক্তের ভাঁড়ার কতটা পূর্ণ হবে তা অবশ্য সময় বলবে।