• পক্ষে
• পক্ষে
বিশ্বজিৎ কর (অবসরপ্রাপ্ত কর্মী)
ঘরে ঘরে হাতে তৈরি পিঠে! আহা, সে স্বাদ ভোলার নয়! দুধপুলি, পাটিসাপটা, চিতই পিঠে, ভাপাপুলি, গোকুল পিঠে— স্বাদে, গন্ধে জিভে জল এসে যায়! দুধ, চালের গুঁড়ো, নারকেল এবং সঙ্গে অবশ্যই নলেন গুড়! সেই তুলনায় কেকের স্বাদ কেমন যেন কৃত্রিমতায় ভরা। পিঠের বদলে কেক খাওয়ায় সেই তৃপ্তিও অনুভূত হয় না। আসলে পিঠেপুলি স্বাদে-গন্ধে-বর্ণে অতুলনীয়, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের একান্ত প্রিয়।
শাশ্বতী প্রামাণিক (ছাত্রী)
বাঙালি মানেই শীতকালের পিঠেপুলির জন্য অপেক্ষা। চিতই পিঠে, ভাপা পিঠে, গোকুল পিঠে, পুলিপিঠে আর কত কী! নাম শুনলেই তো মন আনন্দে ভরে ওঠে। সামনেই তো পৌষ পার্বণ। পিঠেপুলির উৎসব। মায়ের কাছে এ পিঠে ও পিঠে নিয়ে বায়না করার দিন। বাঙালির প্রাণের আয়োজন। যেখানে কেকের স্বাদ নিতান্তই ধোপে টিকবে না।
অনু পল্যে (কলেজ ছাত্রী)
‘আউনি বাউনি চাউনি, তিন দিন কোথাও যাওনি, তিন দিন ঘরে বসে পিঠে-পুলি খেও...!’ গ্রাম বাংলায় পিঠেপুলি নিয়ে প্রচলিত আছে এই ছড়া। ইদানীং বাঙালি ‘বিদেশি পিঠে’ অর্থাৎ কেককে সাদরে বরণ করলেও দুধপুলি, পাটিসাপটা, ভাপাপিঠে, নারকেল অথবা সন্দেশের পুরভরা পিঠের স্বাদ সবসময়ই কেকের চেয়ে ঢের ভালো। পিঠে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ।
• বিপক্ষে
সমাদৃত দাস (ছাত্র)
পিঠেপুলি গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য। পৌষের সময় গ্রাম বাংলার পিঠেপুলি খাওয়ার রীতি ও উৎসব প্রচলন রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিদেশি কেক পিঠেপুলিকে টেক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষত ক্রিম কেক! আসলে এক সময় যখন কেকের আবিষ্কার হয়নি তখন গ্রামীণ বাংলায় পিঠেপুলিই ছিল এক ও অনবদ্য। আর এখন দারুণ সব কেক বাজারে আসতেই পিঠেপুলির চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে।
দেবাজীব সরকার (বেসরকারি চাকুরে)
পিঠেপুলির থেকে কেকের স্বাদ ভালো। এখন কেক নিয়ে অনেকে পরীক্ষানিরীক্ষা করছে, তাতে কেকের নতুন স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ হচ্ছে। বিভিন্ন স্বাদের কেক তৈরি হচ্ছে। অনেক কোম্পানি যেমন এই কাজ করছে, তেমনি এই প্রজন্মের অনেকেই কেক বানাচ্ছেন এবং তাঁদের নতুন চিন্তাভাবনার প্রতিফলন কেকের স্বাদে পাওয়া যাচ্ছে। উল্টোদিকে এখন যে বাজারচলতি পিঠেপুলি দোকানে পাওয়া যায়, তাতে দিদা, ঠাকুরমার হাতে তৈরি পিঠেপুলির স্বাদ নেই। আর এই যুগের খুব কম মহিলাই নিজে হাতে পিঠেপুলি তৈরি করতে পারেন।
অন্তরা সিংহ রায় (চাকরিজীবী)
‘কেকের চেয়ে ভালো পিঠেপুলির স্বাদ’ এ কথা এত সহজে বলে দিলে চলে না। প্রথমত পিঠেপুলি আজকাল আর ক’টা বাড়িতে হয়? অনেকেই দোকান থেকে কেনা পিঠেপুলি এনে নিয়মরক্ষা করেন। অথচ সেই দোকান থেকে আনা কেকের স্বাদ এই কেনা পিঠেপুলির চেয়ে অনেক ভালো। কেক নিয়ে যা পরীক্ষানিরীক্ষা নানা বেকারি বা কেকশিল্পীরা করেন, পিঠেপুলি নিয়ে সেভাবে হয় কি? সেই তো চিরাচরিত পদ্ধতিতে বানানো গতে বাঁধা রান্না! তাছাড়া বহু ডায়াবেটিস রোগী পিঠেপুলির স্বাদ থেকে বঞ্চিত। অথচ কম মিষ্টির বা মধু দিয়ে তৈরি কাস্টোমাইজড কেক তাঁরাও খেতে পারেন। আর খাবারের কোনও জাত-ধর্ম হয় না। তাই বাঙালির পিঠেপুলি আর ইংরেজের কেক বলে কিছু হয় না। বিশ্বায়নের যুগে সব খাবারই সকলের। বিদেশেও পিঠে খাওয়া হচ্ছে, দেশে কেক।
‘তর্ক বিতর্ক’
১০০ শব্দের মধ্যে মতামত লিখে পাঠান [email protected] মেল আইডি-তে। সাবজেক্টে লিখবেন ‘তর্ক বিতর্ক’। পক্ষে না বিপক্ষে লিখছেন, উল্লেখ করবেন। শেষে লিখুন নিজের নাম ও পেশা। সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ডাকযোগে বা ফোনে পাঠানো মতামত গ্রাহ্য হবে না। নির্বাচিত মতামত প্রকাশিত হবে। পরের পর্ব ২৪ জানুয়ারি। বিষয়: ‘বই কেনা মানেই বই পড়া নয়।’ আপনাদের মতামত পাঠান ১৯ জানুয়ারির মধ্যে।