সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বেসরকারি নিরাপত্তা বিভাগে এক মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর নিয়োগকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে এবার উঠে এল একটি সুপারিশপত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের এক আধিকারিক ওই সুপারিশ করেছিলেন বলে সেই গোপন চিঠি(চিঠির সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান পত্রিকা) সামনে এসেছে। আর তা জানাজানি হতেই বিষয়টি নিয়ে ফের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের এক স্থায়ী সুপারভাইজারের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর জন্য ওই সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট কারও জন্য এরকমভাবে সুপারিশ করা যায় কি? এই প্রশ্নই উঠছে। যদিও ওই মহিলা নিরাপত্তা রক্ষীর নিয়োগের পর কর্মরত নিরাপত্তারক্ষীদের বিক্ষোভের ফলে তড়িঘড়ি তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ওই মহিলাকে শান্তিনিকেতনের উপাসনা গৃহে ডিউটি করতে দেখে অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা ক্ষুব্ধ হন। তারপর তাঁরা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার অফিস ঘেরাও করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই, ওই মহিলাকে সরাসরি কাজে বহাল করা হয় বলে অভিযোগ। মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের এক সুপারভাইজারের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী। প্রথম পক্ষের স্ত্রী, দ্বিতীয় পক্ষের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছেন। তার ভিত্তিতে ওই সুপারভাইজারের প্রভিডেন্ট ফান্ড সহ সমস্ত সরকারি সুবিধা বন্ধ করা আছে, এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তার মাঝে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে বেসরকারি নিরাপত্তা বিভাগে ঢোকানোকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদের দাবি, বর্তমানে যে সংস্থা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে, তারা বর্ধিত মেয়াদে রয়েছে। এই মুহূর্তে কোনও নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়নি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে ওই মহিলাকে নিয়োগ করা হয়েছে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ম্যানেজারকে ঘিরে ওইদিন বিক্ষোভ দেখান নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের দাবি ছিল, বেশকিছু নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের স্ত্রীরা ন্যায্য চাকরির অধিকারী। তাঁদের এখনও নিয়োগ হয়নি, অথচ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ওই মহিলাকে নিয়োগ করা হয়েছে।
এরপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তা আধিকারিকের স্বাক্ষরিত চিঠি সামনে আসে। বিশ্বভারতীর এক নিরাপত্তা আধিকারিক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানান, একজন মহিলা নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় কিছু মাস ধরে একটি পদ শূন্য রয়েছে। ওই শূন্য পদে এক মহিলাকে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তিনি জানান, এই নিয়োগে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। অভিযোগ, এই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরে নিয়োগে অনুমোদনের সিলমোহরও দেওয়া হয়েছে। আর সেই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।