সংবাদদাতা মালদহ: জঞ্জাল নিষ্কাশন সংক্রান্ত সার্ভিস ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মাইকে করে প্রচার শুরু করল ইংলিশবাজার পুরসভা। গত কয়েকদিন ধরে পুরসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে টোটোতে মাইক বেঁধে নাগরিকদের কাছে জঞ্জাল নিষ্কাশনের জন্য পরিষেবা কর প্রদানের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের নামেই ওই আবেদন করা হচ্ছে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। ইতিমধ্যেই এই আবেদন নিয়েও কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী আগেই বলেছিলেন, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে এই সার্ভিস ট্যাক্স আদায়ের কথা বলা হচ্ছে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের একটি বৈঠকে তিনি যখন যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে এই পরিষেবা কর আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টি পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠকেও অনুমোদিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপরেই প্রতিদিন বাড়ি পিছু এক টাকা করে এই জঞ্জাল সার্ভিস ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় পুরসভা কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ঘোষণার পরেই বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। মালদহের বণিকসভা সাফ জানিয়ে দেয়, এই জঞ্জাল পরিষেবা করের বিরোধিতা করছে তারা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে চড়া হারে এই পরিষেবা কর আদায় করার সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করার কথা জানিয়ে দেয় মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্স।
অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি এবং সিপিএমও এই জঞ্জাল পরিষেবা কর আদায়ের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছে। সিপিএম আগেই জানিয়েছিল এই পরিষেবা করের বিরুদ্ধে তারা জনমত সংগঠিত করবে। বিজেপিও দাবি করেছে, এই পরিষেবা কর আদায় করা হলে তারা তীব্র আন্দোলন করবে।
কিন্তু এরই মধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে এই প্রচার শুরু হয়েছে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই সার্ভিস ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছে তা মানুষকে জানাতে এই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে বিজেপি মালদহ দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আসলে এই কর মানুষ দিচ্ছেন না। নাগরিকরা এই কর প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই পুরসভা এখন বাধ্য হয়ে প্রকাশ্যে আবেদন করছে। তাতে কোনও সুবিধা হবে না।