সংবাদদাতা, রামপুরহাট: লাগাতার দুর্ঘটনা ঘটছে। রেলের পক্ষ থেকে নিয়মিত সচেতনতার পরও হুঁশ ফিরছে না যাত্রীদের। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের দরজায় বসে সফর করছেন যাত্রীরা। যার জেরে বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ব্যস্ত সময়ে লোকাল হোক বা এক্সপ্রেসে ট্রেনে এই চিত্র ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। যাত্রীদের ওইভাবে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করা দেখে শিউড়ে উঠছেন অনেকে। যদিও নিত্যযাত্রীরা বলছেন, অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি, রেলের পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে ভিড়ের কারণেই অনেক যাত্রী ট্রেনের দরজায় বসে যাত্রা করতে বাধ্য হন।
বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে অধিকাংশ ট্রেনে ঝুঁকির যাত্রা বাড়ছে। সিট না পেয়ে অনেকে ট্রেনের দরজায় বসে ও দাঁড়িয়ে যাত্রা করছেন। ট্রেনের গতি, ঝাঁকুনি বা হঠাৎ ব্রেক কষলে দরজার কাছে বসে থাকা যাত্রী পড়ে যেতে পারেন। এছাড়া ট্রেনের বাইরে মুখ বাড়ানো ও শরীরের অংশ বেরিয়ে থাকলে ইলেকট্রিক পোলে ধাক্কা খাওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে এই নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারও করা হচ্ছে। কিন্তু, তা সত্ত্বেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সফর করছেন। যার জেরে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সাঁইথিয়া জিআরপি অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরে প্রায় ৭০টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। যার একটা বড় সংখ্যা হল ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু। গত ২০মে জখম হন এক যাত্রী। দিন সাতেক আগে সাঁইথিয়া অণ্ডাল রেলপথে মাঠপলশা ১৩ নম্বর রেলগেটের কাছে চেন্নাইগামী এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দুই যাত্রীর।
মুরারই নিত্যযাত্রী সঙ্ঘের পক্ষে জগন্নাথ সেবাদত্ত বলেন, বহু এক্সপ্রেস ও দূরপাল্লার ট্রেনে সাধারণ কামরার সংখ্যা খুবই কম। ওই কামরাগুলিতে এতটাই ভিড় হয় যে যাত্রীদের বাথরুমে যাওয়ারও রাস্তা থাকে না। কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে যাবে। তাই অনেকেই দরজার বসে বা দাঁড়িয়ে থাকে। অধিকাংশ সময় ঘুমে চোখ লেগে যাওয়ায় ট্রেন থেকে পড়ে যান। কেউবা ভিড়ের চাপে শরীরের টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। তিনি বলেন, রেল যে ভাড়া নেয় তা বসে যাওয়ার জন্য। তাহলে রেলের দাঁড়িয়ে যাত্রীদের জন্য উচিত সাধারণ কামরার সংখ্যা বাড়ানো। যতদিন না রেল সেটা করবে ততদিন এই ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
এক জিআরপির আধিকারিক বলেন, সচেতনতামূলক প্রচার সত্ত্বেও কিছু যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে সফরের অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একটি ট্রেনের যাত্রীবহণ ক্ষমতা জানা সত্ত্বেও অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি করছে রেল। রেল শুরু মুনাফা বোঝে। যাত্রীদের সমস্যার উপর কোনও নজর নেই। প্রতিটি রুটে চাহিদার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা কম। ট্রেনও সময়ে যাতায়াত করছে না। ফলে দু’টি ট্রেনের যাত্রী একটি ট্রেনে চাপতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ট্রেনে প্রচুর ভিড়, সিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। হাসফাঁস অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে দরজায় বসে বা দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। তখনই কোনওভাবে পড়ে মারা যাচ্ছেন।
যদিও পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, সাধারণ কামরায় দাঁড়িয়ে যাওয়ারও ক্যাপাসিটি আছে। তারপরও অনেকে নিজের বা পরিবারের কথা না ভেবে দরজায় বা পাদানিতে বসে যাচ্ছে। নিজের চোখে দেখেছি। যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। যেকোনও অজুহাতই এভাবে যাত্রা করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাহলে বনগাঁ লোকাল দেখলে এই যাত্রীরা কী বলবেন? তবে চাহিদার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে সাধারণ কামরার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।