সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘরের জন্য ‘কাটমানি’ দিতে চাননি। তাই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী ও এক ভিলেজ পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যায় পাইকর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এক উপভোক্তা। তদন্তে নেমে রাতেই অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আইনজীবী সৈতক হাটি বলেন, ধৃত দু’জনকে সাতদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগে ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। যা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা অব্যাহত। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি, ভুয়ো উপভোক্তা ও অনিয়মের কারণে এই পদক্ষেপ। বাংলার দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষদের কথা ভেবে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের কোষাগার থেকে অর্থ দেওয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে তা থেকে কাটমানি বা টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় এক উপভোক্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পাইকর থানার মুরারই-২ ব্লকের জাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যা শিউলি বিবির স্বামী সমিউদ্দিন খান ওরফে বাবু শেখ ও ভিলেজ পুলিশ ওবেইদুর ইসলাম এবং তাদের লোকজনদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতের মুখলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা আশিক নবি অভিযোগে জানিয়েছেন, গত ৩০জানুয়ারি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬০হাজার টাকা ঢোকে। তারপর থেকে সমিউদ্দিন ও ওবেইদুর ১৫-২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জোর-জবরদস্তি করে। না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও টাকা ব্যাঙ্কে আটকে দেওয়া এবং অনুদান বাতিল করে দেওয়া হবে বলে ওদের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। এভাবে অনেক উপভোক্তাকে ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রভাবশালী হওয়ায় বাংলার বাড়ির উপভোক্তারা থানায় আসতে ভয় পাচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ রাতেই তদন্তে নেমে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এনিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, তৃণমূল মানেই চুরি, কাটমানি। শুধু এখানেই নয়। যেখানে যাবেন প্রতিটি জায়গায় তারা লুট করে যাচ্ছে। চুরি করেই এদের দিন যাপন করতে হয়। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সমিউদ্দিনের স্ত্রী তথা পঞ্চায়েত সদস্যা শিউলি বিবি। তিনি বলেন, আমার স্বামী টাকা তুললে আমি জানব না? আমাকে তো বলবে। বিরোধীরা চক্রান্ত করে স্বামীকে ফাঁসিয়েছে। আদালতে তোলার পথে ওবেইদুরও বলেন, অভিযোগ সব মিথ্যা। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
তৃণমূলের ব্লক সহ সভাপতি সৌমেন মুখোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বাংলার দরিদ্র মানুষদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন। সেক্ষেত্রে যদি কেউ এই প্রকল্পে দুর্নীতি করে থাকে তাহলে দল এবং প্রশাসন একযোগে ব্যবস্থা নেবে। • নিজস্ব চিত্র