Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬

এসআইআরে মৃত্যুমিছিল, হেসে ওড়ালেন জ্ঞানেশ, আপনার হাতে রক্ত: তৃণমূল

মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন! সঙ্গে বাংলায় এসআইআর পর্বে মানসিক চাপে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া বিএলওরা সহ মোট ৪০ জনের নামের তালিকা।

এসআইআরে মৃত্যুমিছিল, হেসে ওড়ালেন জ্ঞানেশ, আপনার হাতে রক্ত: তৃণমূল
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাত্র পাঁচটি প্রশ্ন! সঙ্গে বাংলায় এসআইআর পর্বে মানসিক চাপে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া বিএলওরা সহ মোট ৪০ জনের নামের তালিকা। শুক্রবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সামনে পেশ করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে তৃণমূলের ১০ জন সাংসদ। আর তা ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বৈঠক। তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় মৃতদের নামের তালিকা পেশ করতেই বিস্ময়সূচক অভিব্যক্তি ফুটে ওঠে জ্ঞানেশ কুমারের চোখেমুখে। সঙ্গে ‘উপহাসের’ মুচকি হাসিও। তাতে মেজাজ হারান তৃণমূল সাংসদরা। ডেরেক সরাসরি বলে ওঠেন, ‘মিস্টার জ্ঞানেশ কুমার, মানুষের মৃত্যু নিয়ে আমরা কথা বলছি আর আপনি হাসছেন? আপনার হাতে তো রক্ত লেগে রয়েছে! প্লিজ হাসবেন না। জবাব দিন, এই মৃত্যুর দায় কার?’ এই অপ্রত্যাশিত আক্রমণে থতমত খেয়ে চুপ করে যান জ্ঞানেশ কুমার। পরে প্রায় ৫৫ মিনিট বক্তব্য রেখেও পাঁচ প্রশ্নের যুক্তিসংগত জবাব তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন বলেই অভিযোগ তৃণমূলের।

Advertisement

বাংলার শাসকদলের ১০ জন সাংসদ এদিন গোড়া থেকেই ছিলেন ‘যুদ্ধং দেহি’ মেজাজে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু প্রথমে মাত্র পাঁচজনের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জেদ ধরে ছিলেন। পরে অবশ্য তাঁরা তৃণমূলের দাবি মেনে নেন। কমিশনের দপ্তরে প্রবেশ করেন ডেরেক, শতাব্দী ছাড়াও, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, মমতা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ, দোলা সেন, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সাকেত গোখলে। গোড়াতেই তাঁরা জানিয়ে দেন, এসআইআরে আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর হচ্ছে, তার বিরোধিতা করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। কারণ, যে ভোটার তালিকায় কমিশনের উদ্বেগ, সেটি ধরেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরকারও তো বেআইনি! তা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না কেন? সাংসদরা প্রায় ৪০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। পরে জ্ঞানেশ কুমার বলেন ৫৫ মিনিট ধরে। যদিও সেই বক্তব্যের সিংহভাগজুড়ে ছিল বিহারে এসআইআরের সাফল্যের কাহিনি। তিনি এও বলেন, ‘খসড়া তালিকায় নাম বাদ গেলে চিন্তা কীসের? ৯ ডিসেম্বরের পর নতুন ভোটার ফর্ম ফিল-আপ করে আবেদন করবেন।’
বৈঠকের পর কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, তৃণমূলের যাবতীয় অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে। সাংসদদের বলা হয়েছে, বিএলওদের কাজে বাধা দেবেন না। প্রভাবিতও করবেন না। কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে কমিশনের নির্দেশ, কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যেন বিএলওদের হুমকি দিতে না পারে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে সিইও অফিস সরানোর কথাও বলা হয়েছে। বাংলার সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের জন্য রাতে এসেছে নয়া নির্দেশিকা। বাংলার নতুন বুথ হবে বিভিন্ন বস্তি, হাই-রাইজ ও আবাসনে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ