নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই: শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন নিয়ে ফের কেন্দ্রের স্ক্যানারে মেটা। ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণ সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মেটাকে কড়া নোটিস পাঠাল কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে অবিলম্বে এই ধরনের সমস্ত বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই নোটিসে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু এই ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা নয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই ঘটনায় বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে মেটার কাছে। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে, কীভাবে এই ধরনের আপত্তিকর বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অনুমোদন পেল, বর্তমানে এই ধরনের কনটেন্ট রুখতে সংস্থা কী কী জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে? এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কী ধরনের প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে? কেন্দ্রের বক্তব্য, শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কোনও কনটেন্ট বা তার প্রচার কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে আরও নিরাপদ করে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। প্রথম থেকেই সরাকারি সূত্রে কড়াক়ড়ি ভাবে জানানো হয়েছিল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে শিশুদের শোষণ বা নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। এর আগেও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রতিটি বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অ্যালগরিদম এবং রিভিউ ব্যবস্থা থাকে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে তা যাচাই করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে মেটার মতো একটি বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থার প্ল্যাটফর্মে কীভাবে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট বিনা যাচাই করেই বিজ্ঞাপনের আকারে প্রকাশ করে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বার মেটাকে নোটিস পাঠাল কেন্দ্র। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত 'ইউজারনেম' ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। সরকারের আশঙ্কা, ওই ফিচারের অপব্যবহারে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে পারে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন ফিচার চালু না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবার ইনস্টাগ্রাম সংক্রান্ত অভিযোগে মেটা কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে কেন্দ্রের।