মুম্বই, ৫জুলাই: টাকা দিলেই মিলবে বিদেশি মার্চেন্ট শিপে মোটা বেতনের চাকরি। সেই ফঁদেই পা দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়ালেন একাধিক চাকরিপ্রার্থী। আর এই একাধিক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করল নয়া মুম্বই পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রবিবার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নয়া মুম্বই পুলিশের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট প্রথমে ছয়জন চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ পায়। অভিযোগে জানানো হয়, বিদেশি জাহাজে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও কোনও চাকরি দেওয়া হয়নি। এর পরেই সজাগ হয় পুলিশ। তদন্তে নামেন তাঁরা। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্তরা নয়া মুম্বইয়ের নেরুল এলাকার একটি শপিং মল থেকে একটি ভুয়ো সংস্থা পরিচালনা করত। তারা চাকরিপ্রার্থীদের দাবি করত তাদের সংস্থাটির কাছে জেনারেল অব শিপিং অনুমোদিত বৈধ নিয়োগ ও প্লেসমেন্ট পরিষেবা লাইসেন্স রয়েছে, তারা স্বচ্ছ পদ্ধতিতেই চাকরি প্রদাল করে থাকে। পুলিশ আরো জানতে পারে, এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে বিদেশি মার্চেন্ট শিপে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের ফাঁদে ফেলত।
পুলিশ আরো জানায় অভিযোগকারী সহ মোট ১৭ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছে থেকে মোট ৪১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে প্রতারকরা। এই ঘটনায় দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের একজন উলওয়ে এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ গুফরান বশির কাজি (২৭) ও নেরুলের বাসিন্দা যোগেশ নাথাজি কালে (৩৫)। বর্তমানে দু'জনই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আরো বাকি ১০ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রতারণা, জালিয়াতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে।