নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া পুরসভার পরিষেবা নিয়ে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মহকুমা শাসক। মঙ্গলবার ওই বৈঠকের পরেই সাফাই সহ পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা সাময়িকভাবে মিটে গেল। ঠিক হয়েছে, আজ বুধবার থেকে কাজে যোগ দেবেন শ্রমিকরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মহকুমা শাসক নির্দিষ্ট কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে পুরসভাকে বিশেষ বোর্ড মিটিং ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাতে অস্থায়ী কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি এবং কে কত সময় কাজ করেছেন, সেই নিরিখে অবসরকালীন সুবিধা নির্ণয়ের প্রসঙ্গ আছে। ওই বিশেষ বোর্ড মিটিংয়ের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতেই সাময়িকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথে হেঁটেছেন অস্থায়ী কর্মীরা।
এদিনের বৈঠকের পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পুরসভার বৈঠকের দিকে আমাদের নজর থাকবে। তারপর ফের আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে অবসরকালীন পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার দাবি মহকুমা শাসক উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরসভার মতো প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভাতাপ্রাপকদের জন্য সরকারের ওই রকম কোনও আইন নেই। পাশাপাশি, কাজ না করায় শহরময় জঞ্জালের পাহাড় তৈরি হওয়ায় আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করেছেন মহকুমা শাসক। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, প্রয়োজনে বিকল্প পথে হাঁটতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
তবে মহকুমাশাসক স্মিতা সান্যাল শুক্লা এদিন বলেন, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান অমিত রায় বলেন, মহকুমা শাসক আমাদের অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করতে বলেছেন। আমরা সেই কাজ দ্রুত করব। আন্দোলনকারীরা দ্রুত কাজে ফিরবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
প্রায় ৯ দিন আগে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা নানা দাবিদাওয়া নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। তার জেরে ইতিমধ্যেই শহরে পুরসভার যাবতীয় পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে সাফাই না হওয়ায় গোটা শহর আবর্জনাময় হয়ে পড়েছে। বাড়ি থেকে আবর্জনা সাফ হচ্ছে না। তাতে বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভা ও প্রশাসন নির্বিকার থাকার কারণেই শহরময় দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবারই বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিষেবা কর মকুবের কথা ঘোষণা করেছিলেন চেয়ারম্যান। তারপর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মহকুমাশাসক। সেখানে পুরসভার চেয়ারম্যান বাদে পুরকর্তাদের একাংশ উপস্থিত ছিল। ওই ত্রিপাক্ষিক
বৈঠকের পরেই আন্দোলন সাময়িক প্রত্যাহার নিয়ে আশার আলো দেখা যায়। -নিজস্ব চিত্র