সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি ‘মৃত’। তাই বার্ধক্য ভাতা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বছরখানেকের বেশি সময় ধরে সরকারি অফিসে ঘুরেও তিনি নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বার্ধক্য ভাতা পেতে হন্যে হয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ঘুরছেন সামশেরগঞ্জের চাচণ্ড পঞ্চায়েতের বলবলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দিন শেখ। পুনরায় আবেদন করলেও তিনি নাকি ভাতা পাবেন না। কেননা সরকারি খাতায় তিনি মৃত। তাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বার্ধক্য ভাতা। যদিও তিনি অন্য সরকারি সুযোগ সুবিধা সবই পাচ্ছেন। সামশেরগঞ্জ ব্লকের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, আসলে কী ঘটেছে আমার জানা নেই। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
জানা গিয়েছে, সামশেরগঞ্জের চাচণ্ডের সাইফুদ্দিন সাহেব এক বছরের বেশি সময় ধরে বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন না। এবিষয়ে খোঁজ নিতে চাচণ্ড পঞ্চায়েতে গেলে তাঁকে ব্লক অফিসে যেতে বলা হয়। ব্লক অফিসে গেলে ওই বৃদ্ধকে এসডিও অফিসে যেতে বলা হয়। কিন্তু, তিনদিন এসডিও অফিসে ঘুরেও কোনও লাভ হয়নি। তিনি জানতে পারেন, মৃত বলে তাঁর বার্ধক্য ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর সমস্ত কাগজপত্র দেখালেও পুনরায় ভাতা চালু হয়নি। এভাবেই এক বছরের বেশি সময় তিনি পঞ্চায়েত ও ব্লক থেকে এসডিও অফিসে ঘুরছেন। সাইফুদ্দিন সাহেব বলেন, বছরখানেক আগে এলাকারই একই নামের অন্য একজন মারা গিয়েছেন। তারপর থেকে আমি আর ভাতা পাচ্ছি না। পঞ্চায়েতে, ব্লকে, এসডিও অফিসে এক বছরের বেশি সময় ঘুরছি। পরে জানতে পারি, আমি নাকি মারা গিয়েছি। কে বা কারা আমাকে ‘মৃত’ বলেছে, আমি জানি না।
তিনি আরও বলেন, আমি কৃষকবন্ধু, রেশন সহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবা পাই। তাহলে বার্ধক্য ভাতা পাব না কেন? বলা হচ্ছে, নতুনভাবে আবেদন করলেও হবে না। চাচণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফেরদৌসি খাতুন বলেন, এক্ষেত্রে কী ঘটেছে, না
দেখে বলতে পারব না। ওঁকে সামনের সপ্তাহে অফিসে আসতে বলা
হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র