নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শনিবার দুপুরে তাহেরপুর এলাকায় চূর্ণি নদী থেকে এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম নাসুরাম বিশ্বাস(৬৫)। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দোলের দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মদ্যপান করিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, নদী থেকে মৃতদেহটি তুলে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নাসুরামবাবুর বাড়ি তাহেরপুর থানা এলাকার ব্যাসপুরে। দোলের দিন সকালে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। পরিজনদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন দোলের দিন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর সারাদিন কেটে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। বিকেলে পরিবারের তরফে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও কোনও সন্ধান মেলেনি। শনিবার সকালেও গোটা এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজেও নিখোঁজ বৃদ্ধের হদিশ মেলেনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন চূর্ণি নদীতে ওই বৃদ্ধকে ভাসতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা থানায় খবর দেন। পুলিস ঘটনাস্থলে এসে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের শরীরে একাধিক সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পরিবারের দাবি, দোলের দিন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে প্রথমে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তারপর তাঁকে পিটিয়ে খুন করে মৃতদেহ নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
মৃতের শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলির সঙ্গে সত্যিই খুনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। পরিবারের তরফে খুনের অভিযোগ দায়ের হওয়ায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার খুনের ধারাতেই মামলার রুজু করেছে পুলিস। মৃত্যুর রহস্যের সমাধান করতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে স্থানীয়দের। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিসের এক কর্তা বলেন, শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে সেগুলি খুনের কি না, তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না এলে বলা সম্ভব নয়। আমরা ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছি।