সংবাদদাতা, তেহট্ট: জলঙ্গি নদীর প্রবাহ পথে পলাশীপাড়া থেকে তেহট্টের বিভিন্ন জায়গায় মৃত মাছ ভেসে উঠছে। এই ঘটনায় চিন্তিত মৎস্যজীবীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে পলাশীপাড়ার কিছু জায়গায় এবং তেহট্টের রঘুনাথপুর, নিশ্চিন্তপুর, তারানগর, চাঁদের ঘাট, হাঁসপুকুরিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় জলঙ্গি নদীতে মাছ ভাসতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় চাষি সঞ্জয় বিশ্বাস, প্রহ্লাদ হালদার বলেন, শুক্রবার বিকেল থেকে মাছ ভেসে ওঠার ঘটনা চাউর হতেই স্থানীয়রা মাছ ধরতে সকাল, বিকেল এমনকী রাতেও নদীতে চলে আসে। শনিবার সকালেও অনেকে কেজি কেজি মাছ বাড়ি নিয়ে গিয়েছেন।
এই ঘটনায় আশঙ্কিত মৎস্যজীবী থেকে পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ জেলার সূতির খালে বছর বছর ফেলা হয় রসুন, পেঁয়াজের উচ্ছিষ্ট থেকে অন্যান্য আবর্জনা। তাতে সেই খালের জল দূষিত হচ্ছে। বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হলেও ওই খালের জল মুর্শিদাবাদের টুঙ্গির কাছে মিশছে জলঙ্গিতে। আর এই কারনেই কয়েকদিন আগে থেকেই পলাশীপাড়ায় এই নদীর রং বদলাতে থাকে। এখন পলাশীপাড়ার পাশাপাশি তেহট্টেও নদীর জলের রং কালো হয়ে গিয়েছে। এক শ্রেণির মানুষের অভিযোগ, নদীর জলে কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী বিষ দিচ্ছে, তাতেই মাছ মরে যাচ্ছে। সেই সব অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই মাছ ধরার জন্য এলাকায় চলে আসছে মুর্শিদাবাদ থেকে। মৎস্যজীবী বিকাশ হালদার, পিন্টু হালদাররা বলেন, প্রতি বার এই সময় জলের রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতেই মাছ মরে। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয় না। পুঁটি, ট্যাংরা, ফলুই, বাটা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরছে। বড় রুই, কাতলা, বোয়াল মাছ ভেসে উঠছে। প্রতি বছর আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হয়। জেলা মৎস্যদপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, সূতির খালের জলের সঙ্গে নদীর জলের মেশাতে জলে অক্সিজেন মাত্রা কমে বাড়ছে দূষণ। সেই কারণেই মাছ মরে ভেসে উঠছে। -নিজস্ব চিত্র