নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পোস্ট অফিসের কয়েক লক্ষ টাকা তছরুপ করে বর্তমানে বেপাত্তা রয়েছে পোস্টমাস্টার। এদিকে গচ্ছিত টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন আমানতকারীরা। সোমবার রাতে সেরকমই এক আমানতকারীর মৃত্যু হওয়ায় নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পোস্টমাস্টারের বাড়িতে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ নিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখান প্রায় শতাধিক আমানতকারী। সোমবার রাতে ঝালদা শহর লাগোয়া পাটঝালদা গ্রামের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। পুলিসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গভীর রাতে মৃতদেহ দাহ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আজ থেকে বছর চারেক আগে আমানতকারীদের গচ্ছিত টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে পাটঝালদা উপ-ডাকঘরের পোস্টমাস্টার সৌম্যক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে। এনিয়ে সেইসময় যথেষ্ট তোলপাড় হয়।
আমানতকারীদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পোস্টমাস্টার গ্রেপ্তার হয়। তারপর জামিনে ছাড়া পেলেও বর্তমানে সে বেপাত্তা রয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে, ওই ডাকঘরেই লক্ষাধিক টাকা গচ্ছিত ছিল গ্রামের বাসিন্দা মুরুলী মণ্ডলের(৫০)। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঁচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই আমানতকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
মৃতের ভাই জয়প্রকাশ মণ্ডল অভিযোগ করেন, দাদার লক্ষাধিক টাকা গচ্ছিত ছিল। তা ওই পোস্টমাস্টার তছরুপ করেছে। এদিকে আমরা টাকার অভাবে দাদার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। সেই কারণেই তাঁকে আমরা বাঁচাতে পারিনি।
চিকিত্সা করাতে গিয়ে সমস্ত টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। দাহ করার খরচটুকুও নেই। সেই খরচের জন্যই আমরা পোস্টমাস্টারের বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু, তাঁর পরিবারের লোক আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। তাই বিক্ষোভ দেখাতে বাধ্য হয়েছি। যদিও দুর্ব্যবহারের অভিযোগটি অস্বীকার করেছে পোস্টমাস্টারের পরিবার।
বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য যোগেশ্বর রুহিদাস। তিনি বলেন, আমানতকারীরা তাঁদের সর্বস্ব খুইয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। নিজস্ব চিত্র