নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ঈদের কেনাকাটা হল না ছোট্ট তাক্রিমের। তার নিথর দেহ ফিরল বাড়িতে। সঙ্গে এল তার মা ও মাসির মৃতদেহ। শুক্রবার সকালে চাপড়ায় স্করপিওর ধাক্কায় দুমড়ে মুচড়ে থাকা টোটোর পাশেই পড়েছিল তাক্রিমের রক্তাক্ত দেহটা। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছনোর সুযোগ পর্যন্ত পায়নি সে। সেই দৃশ্য দেখে অনেক পথচারীই চোখে হাত চাপা দিয়ে কেঁদে উঠেছেন। ঘটনায় শোকস্তব্ধ নাকাশিপাড়া ব্লকের দোগাছিয়া পঞ্চায়েতের তেঘরি গ্রাম।
শুক্রবার রাতে তাক্রিমের দেহ বাড়িতে ফিরতেই গ্রামের লোকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। শুক্রবার রাতেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান নাকাশিপাড়ার বিধায়ক কল্লোল খাঁ। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা সৎকারের কাজে হাত লাগান। বিধায়ক বলেন, ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা পরিবারের পাশে আছি।’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাক্রিম বেশ কিছুদিন ধরেই খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিয়েছিল। যার জন্য তার শরীর খারাপ ছিল। শুক্রবার দোলের দিন সকালে চাপড়ায় তাক্রিমকে ডাক্তার দেখানো ও তাঁর জন্য ওষুধ কিনতে আসার কথা ছিল মা আয়েশা মল্লিকের। তখন তাঁর দিদি সান্ত্বনা মণ্ডল দুই মেয়ের জন্য চাপড়াতেই ঈদের বাজার করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো তাঁরা একসঙ্গেই বেরিয়েছিলেন। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ কেনার পর তাক্রিমকেও ঈদের নতুন জামা কাপড় কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
শুক্রবার বেলা এগারোটা নাগাদ তাক্রিমকে নিয়ে তাঁর মা, মাসি ও তাঁর দুই মেয়ে চাপড়ায় আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। তেঘরি থেকে তাঁরা টোটো করে চাপড়া বাজারের দিকে আসছিলেন। চাপড়ার বৃত্তিহুদা পঞ্চায়েতের লক্ষ্মীগাছার কাছে কৃষ্ণনগরের দিক থেকে আসা নিয়ন্ত্রণ হারানো স্করপিওটি সজোরে টোটোটিকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। মাসির দুই মেয়েকে গুরুতর জখম অবস্থায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তাক্রিমের দাদু নমাজ মল্লিক বলেন, ‘চাপড়া থেকে ওষুধ কেনার পাশাপাশি ঈদের কেনাকাটা করার পরিকল্পনা ছিল ওদের। কিন্তু চাপড়াতে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটল। এভাবে ওদের হারাতে হাবে ভাবতে পারিনি।’
স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূলের বুথ সভাপতি নাজিমুদ্দিন শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই তাক্রিমরা থাকে। মায়ের কোলে কোলে ঘুরত। মাঝেমধ্যেই খেলাধুলো করত। দুঃসংবাদটা শুনে খুবই খারাপ লাগছে।’ -নিজস্ব চিত্র