Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে মৃতদেহ খুুবলে খেল কুকুর

করিডরে পড়ে রয়েছে একটা দেহ। আর সেই দেহের পা খুবলে খেল একটা কুকুর! বীভৎস এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে মৃতদেহ খুুবলে খেল কুকুর
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: করিডরে পড়ে রয়েছে একটা দেহ। আর সেই দেহের পা খুবলে খেল একটা কুকুর! বীভৎস এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসতেই হইচই শুরু হয়। এদিকে,এইখবর ছড়িয়ে পড়তেই তড়িঘড়ি অঙ্কোলজি বিভাগের সামনের করিডর থেকে দেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে এক যুবকের দুর্ঘটনায় কাটা যাওয়া হাত কুকুরে নিয়ে গিয়েছিল ওয়ার্ড থেকে। সেই হাতের হদিশ আজও মেলেনি। তারপর এদিনের ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, গাফিলতির অভিযোগে সরব বিভিন্ন মহল।

Advertisement

প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, কোনও ওয়ার্ডে রোগী নিখোঁজ নেই। কাজেই এটি ভবঘুরের মৃতদেহ হতে পারে এবং আমাদের এখানে ভর্তি ছিলেন না। তবে, মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন, নাকি কোনও ভবঘুরে অসুস্থ হয়ে ওখানে শুয়েছিলেন এবং কুকুরের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, এর কোনওটাই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই স্পষ্ট হবে।
মেডিক্যাল এখন কুকুর ও গবাদিপশুর অবারিত দ্বার হয়ে উঠেছে। ওয়ার্ড, করিডর সর্বত্র কুকুর, গোরু ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে, এই ঘটনায় হাসপাতালের ব্যর্থতা বা গাফিলতি নেই বলে দাবি প্রিন্সিপালের। তিনি বলেন, হাসপাতালে দেড়শোরও বেশি পথ পুকুর রয়েছে। গবাদিপশুর অত্যাচারও এখানে আছে। পথকুকুর নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজ্য প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও শিলিগুড়ি পুরসভায় জানিয়েছি। 
তাঁর বক্তব্য,এই হাসপাতাল ভবঘুরেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। অনেকেই এই হাসপাতালকে এধরনের ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্র মনে করেন। ইচ্ছেমতো বিভিন্ন হাসপাতাল,এনজিও থেকে এখানে ভবঘুরেদের রেফার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে গোপনে হাসপাতাল চত্বরে অসুস্থ ভবঘুরেদের রেখে দিয়েও যাওয়া হয়। অতীতে মৃতদেহ রেখে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। 
প্রিন্সিপালের এই বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কেউ কী মৃত অবস্থায় ওই ভবঘুরেকে ফেলে রেখে গিয়েছে? তাই যদি হয়,সেক্ষেত্রে হাসপাতাল চত্বরে নজরদারিতে গাফিলতির দিকটিও উঠে আসছে। হাসপাতালের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। বাড়তি ২৫ জন সিভিল ডিফেন্স কর্মী আছেন। তারসঙ্গে রয়েছে পুলিস এবং সিসি ক্যামেরায় নজরদারি। এই কড়া ব্যবস্থার মধ্যেও ভবঘুরেদের ফেলে রেখে যাওয়ার সাহস কীভাবে হচ্ছে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন এধরনের ঘটনা হাতেনাতে ধরতে পারছে না? 
ডাঃ সঞ্জয় মল্লিকের সাফাই ,এটা আমাদের কাজ নয়। সেসব করতে গেলে রোগী পরিষেবাই বন্ধ করে দিতে হবে। এখনও এরকম কয়েকজন রয়েছেন, যাঁদের ভর্তি করে দিয়ে যাওয়ার পর কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন না। সুস্থ হয়েও তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তবে, এদিনের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ