সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এবার তারাপীঠেই মিলবে সতীর ৫১ পীঠের দর্শন! বামাখ্যাপার সাধনাক্ষেত্রেই সতীর ৫১ পীঠের আদলে পৃথক মন্দির ও বিগ্রহ গড়ে তোলা হবে। মঙ্গলবার ইলামবাজারের পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তার ভার্চুয়াল শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই শিলান্যাস উপলক্ষ্যে তারাপীঠের উদয়পুর মোড়ে প্রস্তাবিত জায়গায় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়, সিইও তথা রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে, মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
তারাপীঠের পর্যটন বিকাশে সবসময় সচেষ্ট থেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠ ও রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে মন্দির সহ গোটা এলাকায় ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তারাপীঠে সতীর ৫১টি পীঠস্থানের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় টিআরডিএ। জটিলতা কাটিয়ে উঠে এদিন সেই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে শিলান্যাস করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, সতীর ৫১ পীঠের পাঁচটি রয়েছে বীরভূমে। বাকি পীঠগুলি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এতদিন এইসব পীঠস্থান দর্শন করে পুণ্যলাভের আশায় দেশ-বিদেশে পাড়ি দিতে হতো হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের। আবার টাকার অভাবে অনেকের পক্ষেই এইসব ধর্মীয় স্থান দর্শন করা সম্ভব হয় না। এবার সেই সমস্ত মানুষের জন্য এক ছাতার তলায় বিবরণ সহ সতীর ৫১ পীঠের আদলে মন্দির ও বিগ্রহ নির্মাণ পর্যটনক্ষেত্রে বিকাশ ঘটাবে। সুতরাং, এই প্রকল্প গড়ে উঠলে তা যে মানুষের কাছে অভাবনীয় হয়ে উঠবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কাজ মানুষের অন্তরে জায়গা করে নেবে।
টিআরডিএর চেয়ারম্যান বলেন, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প। ২০১৭ সাল থেকে জমির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩১ একর জমির উপর এই প্রকল্প তৈরি হবে। তারই শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা তারাপীঠ এলাকার মানুষের কাছে গর্ব ও অহঙ্কারের বিষয়। মা তারার মন্দিরে যাঁরা আসবেন, তাঁরা ৫১ পীঠেরও দর্শন করতে পারবেন। পর্যটকদের কাছেও তারাপীঠ আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠবে। অর্থনৈতিক বিকাশ ঘটবে। এই এলাকাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠবে। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। সেইসঙ্গে এখানে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য চিলড্রেন পার্ক গড়ে উঠবে।
অন্যদিকে, এদিন মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালকে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল স্তরে উন্নীতকরণের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উপলক্ষ্যে মুরারই গ্রামীণ হাসপাতালেও একটি অনুষ্ঠান হয়। সেখানে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্তা, চিকিৎসক ও নার্স হাজির ছিলেন। সিএমওএইচ শোভন দে বলেন, সোমবার এই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু হয়েছে। ঠিকাদার সংস্থাকে দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। স্টেট জেনারেল হাসপাতাল চালু হওয়ার পর মুরারই সহ আশপাশের এলাকার মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন। - নিজস্ব চিত্র