সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: পিচের রাস্তা। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সিটি সেন্টার মোড় থেকে বিস্তৃত হিমাঞ্চল বিহার পর্যন্ত। যার সঙ্গে যুক্ত বেশকিছু লেন। রাস্তার দু’পাশে দালান বাড়ি, গাছ, পাসপোর্ট অফিস, এসজেডিএ’র অফিস, বেসরকারি কলেজ, হোটেল, হোম স্টে, লজ, নার্সিংহোম প্রভৃতি ছড়িয়ে রয়েছে। কিছু প্লট ফাঁকা। সেগুলিতে গজিয়ে উঠেছে আগাছা। সন্ধ্যার পর কিছু জায়গায় আলো ঝলমল করলেও অধিকাংশ লেনে বাতি নেই। ঘুটঘুটে অন্ধকার। গা ছমছম করা পরিবেশ। দিন তিনেক আগে এহেন ‘ডার্কস্পট’ থেকেই উদ্ধার হয়েছে এটিএম লুটে ব্যবহৃত দুষ্কৃতীদের গাড়ি। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলিই দুষ্কৃতীদের ‘শেল্টার হোম’ বলে সন্দেহ স্থানীয়দের।
শিলিগুড়ি শহর থেকে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে মাটিগাড়া যাওয়ার পথে সিটি সেন্টার মোড় থেকে ডানদিকে হিমাঞ্চল বিহার উপনগরী। শহর সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট উপনগরী মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। প্রায় দুই কিমি এলাকা নিয়ে গঠিত এই উপনগরীতে প্রায় ছ’শো পরিবার রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই ইস্টার্ন বাইপাসে এটিএম লুট করার পর গাড়ি নিয়ে হিমাঞ্চল বিহারে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। তারা সেখানে এসজেডিএ অফিস পার করে অন্ধকার রাস্তায় গাড়ি ফেলে চম্পট দেয়। সম্ভবত সেখান থেকে দুষ্কৃতীরা দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে হেঁটে পালিয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা চাউর হতেই স্থানীয়রা আতঙ্কিত। তাঁদের একাংশের বক্তব্য, হিমাঞ্চল বিহারে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে বিহার ও সিকিম থেকে অনেকেই গাড়ি নিয়ে এখানে আসছেন। তাঁদের উপর তেমন নজরদারি নেই। তাছাড়া এখানকার অধিকাংশ লেন অন্ধকারে ঢাকা থাকলেও প্রশাসন নজর দিচ্ছে না। হিমাঞ্চল বিহার সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মিলন বসু বলেন, এখানে ৫০টি সিসি ক্যামেরা বসানো ও ডার্কস্পটে আলোর ব্যবস্থা করার দাবি পুলিস ও এসজেডিএ’র কাছে জানানো হয়েছিল। এসজেডিএ প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই দাবিগুলি বাস্তবায়িত করেনি। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এটা কার্যত অপরাধীদের গা ঢাকা দেওয়ার জায়গা বা শেল্টার হোম হয়ে উঠেছে।
এসজেডিএ’র চেয়ারম্যান দিলীপ দুগার অবশ্য বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই বক্তব্য পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ সাহিদেরও।
শুধু হিমাঞ্চল বিহার নয়, শিলিগুড়ি শহরের চম্পাসারি, ইস্টার্ন বাইপাস, ভক্তিনগর, এনজেপির কাশ্মীর কলোনি, নৌকাঘাটে মহানন্দা নদীর চর এবং গ্রামের শিবমন্দির, বাগডোগরা, বিধাননগর প্রভৃতি এলাকার ডার্কস্পটগুলি ব্যবহার করছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে আলো, সিসি ক্যামেরা নেই। তাই অপারেশনের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি ‘মিটিংস্থল’ হিসেবে ব্যবহার করছে দুষ্কৃতীরা।
শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেটের এক অফিসার জানান, শহর ও সংলগ্ন এলাকার ডার্কস্পট নিয়ে পুরসভা, পূর্তদপ্তর, জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন দপ্তরের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুরসভা ও প্রশাসন জানিয়েছে, পুলিসের প্রস্তাব অনুসারে অধিকাংশ জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন করে বিষয়টি নিয়ে সমীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।