নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে স্বমহিমায় পাহাড়ের ‘রানি’! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। এখানে রানি মানে কমলা লেবু। ইতিমধ্যে কমলার বাগানে ধরেছে রং। শুধু তাই নয়, পাহাড়ের কমলা আসতে শুরু করেছে দার্জিলিং জেলার সমতলভাগ শিলিগুড়ির বাজারে। এনিয়ে চাষিদের পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত উদ্যানপালন দপ্তরও। তাদের প্রত্যাশা, বিপর্যয়ের পরও কমলার ফলনে খুব বেশি হেরফের হচ্ছে না। গত বছরের মতো এবারও এখানে ফলন হবে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার মেট্রিক টন।
দার্জিলিং জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রভাস মণ্ডল বলেন, এবার কমলার ফলন বর্ষ। বিপর্যয়ের পরও কমলার ফলন গত বছরের মতো প্রায় একইরকম থাকবে। এবার এর বাজারও রমরমা।
দার্জিলিং পাহাড়ের অর্থকরী ফসলগুলির মধ্যে কমলা লেবু অন্যতম। যা পাহাড়ের ‘রানি’ হিসেবে পরিচিত। শীতের মরশুমে যার কদর জগৎজোড়া। দেড় মাস আগের বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে মিরিক থেকে দার্জিলিং-পুলবাজার, কার্শিয়াং থেকে জোড়বাংলো-সুখিয়াপোখরি, রংলিরংলিয়ট সর্বত্রই বাগানে ধরছে কমলা রং। তাতেই গাছ থেকে ফল পাড়তে শুরু করেছেন চাষিরা। ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি শহরের মাল্লাগুড়িতে রেগুলেটেড মার্কেটের বেশকিছু দোকানে পাহাড়ের কমলা এসেছে।
উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকদের একাংশ বলেন, বিপর্যয়ের জেরে কমলার দফারফা হয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। এখন চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশ জলদি জাতের কমলা গাছ থেকে তুলতে শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, এখন কানপুর সহ ভিনরাজ্য ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের কমলা বাজারে বেশি এসেছে। সেই সঙ্গে দার্জিলিং পাহাড়ের কমলাও বাজারে আসছে। যার দাম ১০ থেকে ১২ টাকা পিস।
দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন প্রান্তে কমলা বাগান ছড়িয়ে রয়েছে। যারমধ্যে মিরিক উল্লেখযোগ্য। এর বাইরে কার্শিয়াং, দার্জিলিং পুলবাজার, সুখিয়াপোখরি, রংলিরংলিয়টেও কমলার বাগান আছে। গত ৪ অক্টোবর প্রবল বর্ষণ ও ধসের জেরে মিরিকে বেশকিছু কমলা বাগান তছনছ হয়ে গিয়েছে। ধসের জেরে কিছু বাগান পাহাড়ের খাদে তলিয়ে গিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, বিপর্যয়ে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন কমলার ক্ষতি হয়েছে। তবে এবার ফলন কিন্তু কমছে না। গত বছর পাহাড়ে কমলা বাগান ছিল প্রায় ২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। তাতে ফলনের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন। এবারও কিন্তু সেই রকমই ফলন হবে।
জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর বলেন, আগামী মাস থেকে পাহাড়ের কমলা ওঠায় গতি আসবে। জানুয়ারি মাসের মধ্যে সমস্ত ফলন উঠবে বলেই আশা করছি। চাষি ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ভালো হবে বলেই আশা করছি। • শিলিগুড়ির বাজারে এসেছে মিরিকের লেবু। - নিজস্ব চিত্র।