নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বছরের শুরুতেই পাহাড়ে পরপর তুষারপাত। এতেই পাহাড়মুখি পর্যটকদের স্রোত। তাঁরা বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে পাহাড়ের উচু উপত্যকার উদ্দেশে ছুটছেন। পর্যটকদের মুড দেখে উচ্ছ্বসিত পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, এবার শীতের মরশুমে পর্যটক আসার নিরিখে সিকিমকে টেক্কা দেবে দার্জিলিং, কালিম্পং ও শিলিগুড়ি। ইতিমধ্যে দার্জিলিংয়ের পাহাড় ও সমতলে পর্যটকদের বাম্পার ভিড় রয়েছে।
ডিসেম্বর থেকেই শৈল শহর দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছে। আবহাওয়ার এমন গতিবিধি দেখে বড়দিনেই পাহাড়ে তুষারপাতের আশায় বুক বেঁধেছিলেন ট্যুর অপারেটররা। অবশেষে ৩০ ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত দার্জিলিং পাহাড়ে তিন বার তুষারপাত হয়েছে। এছাড়া, মাঝেমধ্যেই ঠান্ডার জেরে শিশির জমে তুষারের রূপ নিচ্ছে। এতেই পাহাড়ের রূপ কার্যত পাল্টে গিয়েছে। সেই দৃশ্য উপভোগ করতে বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে পাহাড়ে ভিড় করছেন পর্যটকরা। এখন পর্যটকের স্রোত নেমেছে পাহাড়ে। দার্জিলিংয়ের ম্যাল, সান্দাকফু, টংলু, টুমলিং, লেপচাজগৎ প্রভৃতি জায়গায় পর্যটকদের ঠাসা ভিড়।
পাশাপাশি কালিম্পং জেলার ডেলো, তিস্তাবাজার, রিশপ-রিম্বিক, গোরুবাথানেও ভিড় করছেন পর্যটকরা। সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের অধিকাংশ হোটেল, লজ ও হোমস্টের বুকিং রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, পাহাড়ে উচু উপত্যকায় অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়।
অতীতে বিভিন্ন সময় সান্দাকফু, টাইগার হিলে শ্বাসকষ্টে ভোগেন পর্যটকরা। তা হলেও এমন বিপদ নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ পর্যটকরা। তাঁরা তুষারপাতের আনন্দ উপভোগ করার টানেই পাহাড়ে ভিড় করছেন। সেইসঙ্গে দার্জিলিং জেলার সমতলভাগ, বেঙ্গল সাফারি, তরিবাড়ি, শহরের হংকং মার্কেট, পানিট্যাঙ্কি পরিদর্শন করছেন পর্যটকরা।
ট্যুর অপারেটর সম্রাট সান্যাল বলেন, ট্রেন ও বিমানে পর্যটকরা এখানে আসছেন। কেউ এনজেপি স্টেশনে, কেউ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামছেন। এরপর পর্যটকদের গন্তব্য কালিম্পং, সিকিম কিংবা দার্জিলিং। এবার পর্যটক আসার নিরিখে সিকিমকে টেক্কা দেবে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যাবে। বর্তমানে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের হোটেল, লজ ও হোমস্টের প্রায় ৮০শতাংশ বুকিং রয়েছে। এবার রেকর্ড ব্যবসা হবে বলেই আশা করছি।