নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুজো আসতে এখনও প্রায় দু’মাস বাকি। তার আগেই ‘ভ্যানিস’ পুজোর সময় ঘুরতে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির ‘দীপুদা’ দীঘা-পুরী-দার্জিলিং যাওয়ার টিকিট শেষ হয়ে গিয়েছে বুকিং খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। টিকিট কাটার প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এখন অনেকেই হতাশ। হতাশা বাড়ছে, কারণ এই টিকিটের হাহাকার পাঁচদিন ধরে চলার পরও রেলের পক্ষ থেকে এখনও পুজো স্পেশাল ঘোষণা করা হয়নি। টিকিট নিশ্চিত না করে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যানও করা যাচ্ছে না। তাই পুজোর ভ্রমণ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ বাড়ছে। ভ্রমণপিপাসুরা চান, দ্রুত পুজো স্পেশালের ঘোষণা করুক পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেল। যাতে টিকিট কেটে নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।
উত্তরবঙ্গ যাওয়ার ‘রাজধানী’ হল দার্জিলিং মেল। রবিবার মহাষষ্ঠীর দিন এনজেপি যাওয়া দার্জিলিং মেলে কোনও টিকিট অবশিষ্ট নেই। ওয়েটিং লিস্টেও টিকিট কাটা যাচ্ছে না। সোমবার সপ্তমীর দিন মাত্র ফার্স্টক্লাস এসিতে এখনও টিকিট কাটা যাচ্ছে। তবে, তার ওয়েটিং লিস্ট রয়েছে ২২-এ। বাকি কোনও শ্রেণিতেই টিকিট কাটার সুযোগ নেই। এনজেপিগামী বন্দে ভারত ট্রেনেরও ষষ্ঠীর দিন কোনও টিকিট নেই। সপ্তমীতে ওই ট্রেনের চেয়ারকারে ওয়েটিং লিস্ট এখন ২৬৬। সরাইঘাট, পদাতিক, উত্তরবঙ্গ বা কাঞ্চনকন্যা, যাত্রীদের পছন্দের একটি উত্তরবঙ্গগামী এক্সপ্রেস ট্রেনেও ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে টিকিট নেই। প্রায় একই অবস্থা অষ্টমীর দিনেও। হয় টিকিট নেই, নয়তো ওয়েটিং লিস্ট এত দূরে যে, কনফার্ম হওয়ার সুযোগ নেই।
একই অবস্থা পুরীগামী ট্রেনগুলিরও। হাওড়া-পুরী সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে ষষ্ঠীর দিন কোনও টিকিট নেই। সপ্তমীর দিন থার্ড এসির ওয়েটিং লিস্ট ১০০ ছাড়িয়েছে। ষষ্ঠীর দিন পুরীগামী বন্দে ভারতের ওয়েটিং লিস্ট ২২৮। সপ্তমীতে ওয়েটিং লিস্ট ১৬০। শতাব্দী থেকে দুরন্ত, কোনও ট্রেনেই কনফার্ম টিকিট নেই। এই অবস্থা দীঘাগামী ট্রেনগুলির ক্ষেত্রেও। মালদা-দীঘা এক্সপ্রেস ট্রেনের দশমীর কনফার্ম টিকিট এখনই শেষ হয়ে গিয়েছে। হাওড়া থেকে দীঘাগামী তাম্রলিপ্ত ও কাণ্ডারী এক্সপ্রেসেও টিকিটের হাহাকার চলছে। একই হাল উত্তর ভারত মুখী ট্রেনগুলিরও। এহেন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকুরিজীবী থেকে শিক্ষক, পুজোর ছুটিতে ঘুরতে যাওয়ার উৎসাহ কার্যত মাঠে মারা যাওয়ার মতো অবস্থা। সবাই তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে, কখন রেল পুজো স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা করবে। কারণ, পুজো স্পেশাল ট্রেন যত দেরিতে ঘোষণা হবে, ততই গন্তব্যের হোটেল, রিসর্ট বা হোম-স্ট্রে বুক করতে সমস্যা হবে। এদিকে, টিকিট নিশ্চিত না করে কোনও কাজই এগনো যাচ্ছে না।
আসানসোলের শিক্ষিকা সুবর্ণা ঘোষ বলেন, ভেবেছিলাম দার্জিলিং ও তিনচুলে যাব। টিকিটই পেলাম না। এখন পুজো স্পেশালের অপেক্ষায় বসে আছি। দুর্গাপুরের সরকারি অফিসের কর্মী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, জানি না কবে রেল পুজো স্পেশাল ঘোষণা করবে। পুরী যাওয়ার ইচ্ছে ছিল।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। পর্যাপ্ত পুজো স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হবে।