সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ শহরের ১৪নম্বর স্পেশাল লেভেল ক্রসিংয়ের দু’দিকে রাস্তায় অসংখ্য গর্ত হয়েছে। ফলে রোজ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে কোনও মুহূর্তে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রেল কর্তৃপক্ষ ওই রাস্তা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ওই রেলগেট হয়ে নদীয়া থেকে বর্ধমান, এমনকী উত্তরবঙ্গের গাড়ি যাতায়াত করে। রেলের ব্যান্ডেল-কাটোয়া শাখার এই রেলগেট হয়ে নদীয়া ও বর্ধমানের প্রধান সংযোগকারী রাস্তা গিয়েছে। রোজ এই রেলগেট পার করে প্রায় ১০হাজার গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে পণ্যবাহী গাড়ি দক্ষিণবঙ্গ থেকে এই রেলগেট হয়ে গৌরাঙ্গ সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করে। কিন্তু রেলগেটের দু’দিকে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তাতে বর্ষার জল জমে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়েছে। এর ফলে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।
ওই এলাকায় অমল বিশ্বাসের জুতোর দোকান রয়েছে। তিনি বলেন, গর্তের কারণে প্রায়দিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগে থাকছে। কয়েকদিন আগে এখানে একটা টোটো উল্টে গিয়েছিল। জরুরি ভিত্তিতে রেলগেট লাগোয়া রাস্তা সংস্কার করা দরকার।
ওই এলাকার মোবাইলের দোকানদার রতন দাস বলেন, এই রাস্তা তো রেলেরই আওতায় রয়েছে। কিন্তু রেল কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বর্ষায় গর্তে জল জমে থাকছে। পথচারী ও গাড়ি চালকরা বুঝতে পারেন না, রাস্তা কত গভীর। সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটছে।
জেলা বাস পরিবহণ ইউনিয়নের সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, এই রেললাইনের একদিকে নবদ্বীপ ও অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানা এলাকা। নবদ্বীপ বাসস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটের শতাধিক বাস এই লেভেল ক্রসিং হয়ে চলাচল করে। ওখানে রাস্তা খারাপ থাকায় আমাদের বাসের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা রেলকে অনেকবার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু লাভ হয়নি।
নবদ্বীপ ধামের স্টেশন ম্যানেজার হরিদাস সরকার বলেন, বিষয়টি পূর্ব রেলের নবদ্বীপের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। গর্তের জন্য মাঝেমধ্যে ট্রেন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ করবে। নিজস্ব চিত্র