সংবাদদাতা, কাটোয়া: অজয়ের পাড় থেকে বেআইনি ভাবে বালি তোলার জন্য যে টানেল কাটা হয়েছিল, সেগুলিই এখন হয়ে উঠেছে গ্রামের বাসিন্দাদের আতঙ্কের কারণ। ওই কাটা খালগুলিতে নদের জল ঢুকে গতিপথ বদলাচ্ছে। বর্ষায় প্লাবনের আতঙ্কে ঘুম উড়েছে গ্রামের বাসিন্দাদের। কাটোয়ার চুড়পুনি, রাজুয়া, যতীনপুর, আঙারপুর এসব গ্রামগুলি অজয় লাগোয়া। নদে জল বাড়লেই গ্রামগুলি প্লাবিত হয়ে যায়। এইসব এলাকায় জেসিবি দিয়ে জমি খুঁড়ে বালি তুলেছে কারবারিরা। বর্ষায় অজয়ের জল বাড়ছে। সেই কাটা খালে জল ঢুকে নদের গতিপথ বদলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অজয়ের জল আরও বাড়লে সব ভেসে যাবে।
পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) রিসিন ইসমাইল বলেন, আমি তদন্তের জন্য টিম পাঠাচ্ছি। যদি কোনও বেনিয়ম দেখতে পাই, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করব। পাশাপাশি ডব্লিউবিএমডিটিসিএলকে জানাব।
কাটোয়া-১ ব্লকের কোশিগ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি এলাকায় অজয়ের পাড় লাগোয়া কৃষিজমি ভয়ানক ভাবে কাটা হয়েছে। গভীর খাল কেটে বালি তোলা হয়েছে। সেই খাল কেটেই আনা হয়েছে কুমির। কাটা খালেই হু হু করে অজয়ের জল ঢুকছে। অতি বর্ষণে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ওইসব জমিতে ফসল হতো। ওইসব জমিতে নজর পড়ে বালি কারবারিদের। তারা এসে জেসিবি দিয়ে জমি কেটে তার নীচ থেকে বালি তুলছে। কিছু বলতে গেলেই গায়ের জোর দেখায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মির্জা, লাল শেখ বলেন, আগে এসব এলাকা কৃষিজমি ছিল। বালির কারবারিরা দেখেছে তার নীচে ভালো বালি আছে। ব্যস রাতদিন এক করে জমি খাল করে ভয়ানক ভাবে কেটেছে। এখন সেই কাটা খালগুলিতে জল ঢুকে অজয়ের গতিপথ বদলাচ্ছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যেই রয়েছি। ছেলেপুলে নিয়ে ভেসে যেতে পারি। বুদু কাজি, রাজু মোল্লা আবার বলছেন, কাটোয়া, শ্রীখণ্ড, হরিপুরের বেশ কয়েকজন কারবারি এসব করেছে। এভাবে জমি কেটে বালি কি তোলা যায়? প্রশাসন কেন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অজয়ের পাড় লাগোয়া জমিগুলি একসময়ে বন্যার আশঙ্কায় কেউ কিনতে চাইতেন না। এখন দ্বিগুণ দামে সেই জমি কিনছে কারবারিরা। কারণ তার নীচে বালি আছে। কেউ বিক্রি করতে রাজি না হলে তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, স্থানীয় বেশ কয়েকজন যুবক আবার ট্রাক পিছু টাকা তুলছে। অভিযোগ, এসব কারবারিদের মাথায় রাজনৈতিক নেতাদের হাত থাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কাটোয়ার বেশ কয়েকজন যুবক বালি সিন্ডিকেটের ব্যবসা করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সিন্ডিকেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের জন্য প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূলের ভোট বাক্সে। -নিজস্ব চিত্র