Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশ্বভারতীতে হেরিটেজ ওয়াকে নাচ, প্রতিবাদে সরব প্রাক্তনীরা

শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে হেরিটেজ ওয়াকে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য নাচগানের ব্যবস্থা করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ‌সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়ারা সেই নাচ-গানে অংশগ্রহণ করছেন।

বিশ্বভারতীতে হেরিটেজ ওয়াকে নাচ, প্রতিবাদে সরব প্রাক্তনীরা
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাসে হেরিটেজ ওয়াকে পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য নাচগানের ব্যবস্থা করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। ‌সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়ারা সেই নাচ-গানে অংশগ্রহণ করছেন। ‌বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ সরব হলেন প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের একাংশ ও ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাসের দরজা। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় হেরিটেজ ওয়াক। কিন্তু সেখানে নাচ-গান দেখানোতে তাতেই আপত্তি তুলেছেন অনেকে। সুপ্রিয়বাবু বলেন বিশ্বভারতী, সোনাঝুরির হাট নয় যে পর্যটকদের মনোরঞ্জন করতে ছাত্রছাত্রীরা নাচ-গান করবেন। এটা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এর তীব্র প্রতিবাদ করি। অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেকে এই বিষয়টিতে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উপার্জন করছে খুব ভালো। কিন্তু সেখানে ছুটির দিনে ছাত্রছাত্রীরা কেন তাঁদের মনোরঞ্জনের জন্য নৃত্য প্রদর্শন করবেন? 
এপ্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, শান্তিনিকেতন এখন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। কেন হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে, এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা কেমন, সেই বিষয়গুলি আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে অহেতুক সমালোচনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনা আবহে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রাক্তন বিতর্কিত উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এর মাঝে, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায়‌ কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন। তারপর থেকে রবিতীর্থে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও ক্যাম্পাসে তালা তাঁদের জন্য বন্ধই হয়েছিল। তাই পদে যোগদানের পর হেরিটেজ ওয়াক চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগী হন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তার প্রেক্ষিতে, ২৩ জুলাই প্রথমে হেরিটেজ ওয়াকের পরীক্ষামূলক ট্রায়াল হয়। এরপর ৩ আগস্ট সেই কর্মকাণ্ড শুরু হয়। দর্শনার্থীদের কাছে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে নিয়মিত করতে উদ্যোগী হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য, শিল্পকলার নিদর্শন ঘুরে দেখার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য নৃত্য গীতি আলেখ্যেরও ব্যবস্থা করেছে বিশ্বভারতী।‌ আর তাতেই আপত্তি তুলেছেন প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা। 
প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, ক্যাম্পাস ঘুরে দেখানোর সঙ্গে দর্শকদের যেভাবে নাচ-গান দেখানো হচ্ছে তা একেবারেই ঠিক নয়। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা কি শো-কেস নাকি? যে সোনাঝুরির মতো সমবেত নৃত্য প্রদর্শন করবে? আমি সম্পূর্ণ এর বিপক্ষে। বিশ্বভারতীতে উৎসব অনুষ্ঠানের অভাব নেই। বৃক্ষরোপণ, হলকর্ষণ, বর্ষামঙ্গল, বসন্ত উৎসবে পর্যটকরা এলে নৃত্যানুষ্ঠান ঠিকই দেখতে পাবেন। এটা শান্তিনিকেতনের রুচিসম্মত নয়। 
এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিস্তর জল ঘোলা হয়েছে। তৃষ্ণা মুখোপাধ্যায় মিশ্র নামের এক প্রাক্তনী লেখেন, হেরিটেজ ওয়াকটা ঠিক আছে। মানুষ আসবে, আশ্রম ঘুরে দেখবে। কিন্তু প্রাক্তনী হিসেবে মনে করি, বিশ্বভারতীর ছাত্রীদের এভাবে নৃত্য প্রদর্শন করা একেবারেই শোভনীয় নয়। এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ নাচগানের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সে দিকে তাকিয়ে সকলে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ