Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানিকচকের গোপালপুরে ‘বিপদে’ বাঁধ, মহানন্দার ভাঙনে তীব্র আতঙ্ক সাহাপুরে, প্রশ্নের মুখে ১৪ কোটির সংস্কার কাজ

মানিকচকের গোপালপুরের এলাহিটোলা ও সহবতটোলায় চলছে ব্যাপক গঙ্গা ভাঙন। দু’দিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। নদীবাঁধ থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে রয়েছে গঙ্গা।

মানিকচকের গোপালপুরে ‘বিপদে’ বাঁধ, মহানন্দার ভাঙনে তীব্র আতঙ্ক সাহাপুরে, প্রশ্নের মুখে ১৪ কোটির সংস্কার কাজ
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক ও মালদহ: মানিকচকের গোপালপুরের এলাহিটোলা ও সহবতটোলায় চলছে ব্যাপক গঙ্গা ভাঙন। দু’দিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। নদীবাঁধ থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে রয়েছে গঙ্গা। ভাঙন না থামলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য শেষ হওয়া ভাঙন রোধের কাজ। যেকোনও মুহূর্তে গঙ্গায় তলিয়ে যেতে পারে সম্পূর্ণ কাজ, বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। এদিকে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন মালদহ জেলা সেচ দপ্তরের্র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

Advertisement

মানিকচকের গোপালপুর পঞ্চায়েতে সহবতটোলা ও এলাহিটোলা গ্রাম। প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস এই দু’টি গ্রামে। একেবারে বাঁধের ধারেই বসবাস করেন তাঁরা। কয়েকদিন ধরে বাড়ছে গঙ্গানদীর জলস্তর। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। দু’দিনে প্রায় দু’শো মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন হয়েছে। বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে গিয়েছে নদীগর্ভে। ইতিমধ্যে ভাঙন রোধের জন্য কয়েকমাস আগে গোপালপুরের কামালতিপুর থেকে শান্তিমোড় পর্যন্ত ডাউনস্ট্রিমে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে। সেই কাজও প্রায় শেষের দিকে। এই কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আপস্ট্রিমে সহবতটোলা ও এলাহিটোলায় ভাঙনের ফলে নদী অনেকটা ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। ফলে পিছন দিকের সমস্ত সংস্কার কাজ নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। 
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আপেল বলেন, শুরু থেকেই আপ স্ট্রিম থেকে কাজের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আধিকারিকরা কথা শোনেননি। যার ফল ভুগতে হচ্ছে আমাদের। বর্তমানে বাঁধ থেকে মাত্র ৪০ মিটার দূরে রয়েছে গঙ্গা। দ্রুত ভাঙন রোধের কাজ না হলে বাঁধ টিকবে না। বাঁধ ভাঙলে শুধু গোপালপুর নয়, গোটা মালদহ জেলা ভাসবে।
অন্যদিকে, গঙ্গা ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মালদহ জেলা সেচ দপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ছিলেন গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধ অ্যাকশন কমিটির সম্পাদক খিদির বক্স সহ মানিকচক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ আসিরুদ্দিন সহ এলাকাবাসী। তাঁরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। 
এবিষয়ে এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় বালির বস্তার মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে বারবার ভাঙন রোধে জিও সিন্থেটিক টিউব ব্যবহারের দাবি উঠেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি দপ্তরকে জানিয়েছি। আগামীতে সেভাবেই ভাঙন রোধের কাজ করা হতে পারে।
অন্যদিকে, পুরাতন মালদহের সাহাপুর পঞ্চায়েতের বিমল দাস কলোনির একাংশে শুরু হয়েছে মহানন্দার ভাঙন। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ওই বসতির প্রায় ১৫০ বাসিন্দা। গঙ্গা দাস, দীপেশ মণ্ডল, কল্পনা রবিদাস সহ সব স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, যে গতিতে মহানন্দা এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে, তাতে বাড়িঘর রক্ষা করা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মাম্পি সাহা দাসের বক্তব্য, নদী ভাঙন প্রতিরোধের মতো বড় কাজ করার জন্য আমাদের অর্থ, লোকবল, প্রযুক্তি কিছুই নেই। সেচ দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তাঁদের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ