সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ডালখোলা পুরসভায় এগজিকিউটিভ অফিসার না থাকায় চলতি মাসের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও বেতন পাননি পুরকর্মীদের একাংশ। নভেম্বর মাসের বেতন না পেয়ে প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ কর্মচারীরা। দ্রুত বেতন না পেলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মচারীরা।
এগজিকিউটিভ অফিসার না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন শহরের সাধারণ মানুষও। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওবিসি সার্টিফিকেটের রি-ভেলিডেশনের জন্য এগজিকিউটিভ অফিসারের স্বাক্ষর প্রয়োজন। কিন্তু পুরসভায় এগজিকিউটিভ অফিসার না থাকায় বাসিন্দাদের ছুটতে হচ্ছে করণদিঘির বিডিও’র কাছে।
শনিবার ডালখোলা পুর কর্মচারী ফেডারেশনের বৈঠকে বেতন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডালখোলা পুরসভায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ জন, এনএলইউএমের ৩ জন, মিড ডে মিলের ৩ জন অফিস স্টাফ, ২৬ টি স্কুলের প্রায় ৭০ জন রাঁধুনি বেতন ও সাম্মানিক পাননি। কারণ, তাঁদের চেকের মাধ্যমে বেতন হয়। চেকে এগজিকিউটিভ অফিসার ও ফিনান্স অফিসারকে সই করতে হয়। দু’দিন আগেই পুরসভায় নয়া চেয়ারম্যান হয়েছেন। তিনি এখনও চেকে সই করার ক্ষমতা পাননি। এই পরিস্থিতিতে বেতন না পেয়ে কর্মচারীরা সরব হয়েছেন। পুর কর্মচারী ফেডারেশনের রাজ্য কমিটির সদস্য সন্তোষ দেবনাথ বলেন, সোমবারের মধ্যে বেতন সমস্যা না মিটলে মঙ্গলবার থেকে আমরা কর্মবিরতির মাধ্যমে আন্দোলনে নামতে পারি।
সন্তোষের অভিযোগ, ২৫ অক্টোবর থেকে এগজিকিউটিভ অফিসার নেই। বেশকিছু কর্মী পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে লোন নেওয়ার জন্য দু’মাস থেকে ঘুরছেন। কিন্তু লোন পাচ্ছেন না। কারণ, সেখানেও এগজিকিউটিভ অফিসার ও চেয়ারম্যানের অ্যাপ্রুভাল লাগে। বেতন সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন ইসলামপুরের মহকুমা শাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল।
পুরসভা এলাকায় থাকা প্রাইমারি ও হাইস্কুলগুলিতে দুই-তিনজন করে রাঁধুনি আছেন। তাঁরা সান্মানিক হিসেবে মাসে খুবই সামান্য টাকা পান। সেই টাকাও তাঁরা পাচ্ছেন না। রান্না করতে যা খরচ হয়, সেই বিলও পাচ্ছেন না।
পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান তনয় দে বলেন, এগজিকিউটিভ অফিসার হিসেবে এক আধিকারিকের নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনও পুরসভায় আসেননি। কর্মচারীরা যাতে দ্রুত বেতন পান, সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব।