শ্যামলেন্দু গোস্বামী , বারাসত:
শ্যামলেন্দু গোস্বামী , বারাসত:
হাতেগোনা আর ক’দিন, তার পরেই কালীপুজো। আলোর উৎসবে সাজসাজ রব বারাসতে। বারাসতের নওপাড়া কল্যাণ সমিতি শক্তিদেবীর আরাধনায় মানুষের মনজয় করতে মরিয়া। ৪৬তম বছরে উদ্যোক্তাদের থিম দক্ষিণেশ্বরের মন্দির। মণ্ডপের উচ্চতা ৬০ ফুট ও চওড়া ৪০ ফুট। কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হবে ১৬ ফুট উচ্চতার কালীপ্রতিমা। যা তৈরি করেছেন শিল্পী দীপঙ্কর পাল। প্রতিমার মুখে যে শক্তি ও মমত্বের সমন্বয়, তা দর্শনার্থীদের চোখে ভক্তি ও বিস্ময় আনবে। মণ্ডপ নির্মাণ করছেন সুরজিৎ পাইন। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডপের প্রতিটি কোণে আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া থাকছে।
দর্শনার্থীরা মণ্ডপে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে অনুভব করবেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের শান্তি-ভক্তির পরিবেশ। ভিতরে থাকবে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণদেব ও মা সারদার মূর্তি। পুজো কমিটি জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে একটি বিশেষ আকর্ষণ। এদিকে, আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে চন্দননগরের বিশেষ শৈলী। প্রতিটি বাতি, প্রতিটি ছায়া মিলে তৈরি করছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। রাতের আকাশের সঙ্গে মণ্ডপের আলোর খেলা দর্শনার্থীদের চোখে আনন্দের ঝলক সৃষ্টি করবে। প্রতিটি কোণে ফুটে উঠবে উল্লাস, ভক্তি এবং উৎসবের এক অনন্য মেলবন্ধন। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ্ত সেনগুপ্ত ও ইন্দ্রজিৎ কর্মকার বলেন, মণ্ডপ শুধুমাত্র একটি প্যান্ডেল নয়, আলাদা অনুভূতি। আশা করি দর্শনার্থীরা এখানে প্রবেশ করলে তাঁরা আনন্দ, বিস্ময় এবং আত্মিক শান্তির এক বিশেষ মুহূর্ত উপভোগ করবেন।
অন্যদিকে, থিমের মাধ্যমে নজর কাড়তে চলেছে বারাসতের অন্য একটি পুজো কমিটি ছাত্রদল। এক সময় বিকেল হলেই মাঠে দৌড়ত শিশু থেকে কিশোররা। বল নিয়ে খেলা, গায়ে ঘামের গন্ধ, ধুলো মাখা পা ছিল শৈশবের পরিচিতি। বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা, কাবাডি, লুকোচুরি খেলার আনন্দ ছিল শৈশবের চোখেমুখে। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির জালে মুঠোফোনেই আটকে গিয়েছে শৈশব। পড়াশোনা থেকে খেলাধুলো সবই এখন মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণে। কংক্রিটের জঙ্গলে খেলার মাঠ হারিয়ে গিয়েছে। খেলার জন্য শোনা যায় না বন্ধুদের ডাকাডাকি। সেই ভাবনা থেকেই ৫৬তম বছর ছাত্রদলের থিম ‘বন্দি শৈশব’।
ক্লাবের পক্ষ থেকে সোমবার পুজোর থিম সং উদ্বোধন হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন শিল্পী অভিজিৎ দাস। পুজো কমিটির সদস্য প্রতীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, হারিয়ে যাওয়া শৈশব আমরা মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বারাসতে ছাত্রদল পুজো কমিটিই প্রথম, যারা থিম ভাবনা নিয়ে থিম সং তৈরি করল কালীপুজোয়।