রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দুই দশক পর কোচবিহারে আবার পথচলা শুরু করল জেলার একমাত্র ডেয়ারি ফার্ম। সেইসঙ্গে চকচকার দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পটি চালু হওয়ায় কোচবিহারের শিল্পক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হল।
রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। দুই দশক পর কোচবিহারে আবার পথচলা শুরু করল জেলার একমাত্র ডেয়ারি ফার্ম। সেইসঙ্গে চকচকার দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পটি চালু হওয়ায় কোচবিহারের শিল্পক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হল।
‘রাধে ডেয়ারি’ নামে কোচবিহারের এই ডেয়ারি থেকেই জেলার মানুষ কম দামে কিনতে পারবে তাজা দুধ সহ দুগ্ধজাত পণ্য। প্যাকেটজাত দুধের পাশাপাশি এখানে টকদই, মিষ্টিদই, পনির, ঘি, লস্যি, ছাঁচও তৈরি হবে। কোচবিহারের শিল্পপতি সুন্দরলাল চোপড়ার উদ্যোগে কোচবিহারে ফের ডেয়ারি ফার্মটি ফের চালু হল। ধাপে ধাপে এতে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে।
মঙ্গলবার কোচবিহারের চকচকা শিল্পতালুকে ডেয়ারি ফার্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। উদ্বোধন করেন কোচবিহারের জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা বর্মন। ডেয়ারি ফার্ম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ফার্মে দৈনিক এক লক্ষ লিটার ধারণ ক্ষমতাযুক্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। তবে শুরুতে দৈনিক ৫০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হবে। এখন কোচবিহার জেলা থেকে দুধ সংগ্রহ করে উৎপাদন শুরু হলেও আগামী দিনে আশপাশের জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্য অসম ও বিহার থেকেও দুধ সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও সরকারি সাহায্যে আগ্রহী ৫০০ মহিলাকে গোরু এবং গোরু দেখভালের জন্য ঘর করে দিতে ঋণের ব্যবস্থারও ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করে দেওয়া হবে। সেই দুধ ডেয়ারি কর্তৃপক্ষই কিনে নেবে। এতে মহিলারা এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বনির্ভর হতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, নয়ের দশকের শেষে কোচবিহারের একমাত্র শিল্পতালুক চকচকা শিল্পবিকাশ কেন্দ্রে একটি ডেয়ারি ফার্ম চালু হয়েছিল। কিন্তু বছর তিনেক চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে অনেক চেষ্টা করেও ডেয়ারি ফার্মটি চালু করা যায়নি। অবশেষে কোচবিহারের শিল্পপতি সুন্দরলাল চোপড়া ডেয়ারিটি চালু করার উদ্যোগ নেন।
প্রায় ছ’কোটি টাকা ব্যয়ে ডেয়ারি ফার্মটি ফের চালু করতে পেরে খুশি সুন্দরলালবাবু। তিনি বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল কোচবিহারে ডেয়ারি ফার্ম চালু করার। অবশেষে সেই ইচ্ছে পূরণ হল। ডেয়ারি শিল্পের সবরকম আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। এক লক্ষ লিটার পর্যন্ত ধারণ ক্ষমতার আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। তবে শুরুতে দৈনিক ৫০ হাজার লিটার দুধের কাজ হবে। সঠিক দাম এবং গুণমান ঠিক রেখে এই ডেয়ারিটি চলবে। প্রথম অবস্থাতেই ৫০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এই শিল্পে। জেলা প্রশাসন এই ডেয়ারি প্রকল্পটি নিয়ে খুবই সহযোগিতা করছেন।
ডিএম অরবিন্দকুমার মিনা বলেন, এদিন কোচবিহারে একটি ডেয়ারি শিল্পের সূচনা হল। এটা জেলার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। প্রশাসনের তরফে সব রকমের সহযোগিতা আমরা করব। প্রদীপ জ্বালিয়ে কোচবিহারের চাকচকায় ডেয়ারি ফার্মের উদ্বোধন করছেন জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুমিতা বর্মন। নিজস্ব চিত্র।