Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার পেয়ে ফেরত দিলেন টোটো চালক

দেড় লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার পেয়ে ফেরত দিলেন টোটো চালক
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সংসারে অভাব রয়েছে তাঁর। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সংসার সামাল দেওয়াই দায়। তাই বাধ্য হয়েই ‘ওভারটাইমে’ টোটো চালিয়ে আয় করতে হয় প্রতিদিনের চাল-ডালের খরচ। তবু তিনি অভাবের সংসারে লড়াই করে বেঁচে থাকার আনন্দকে উপভোগ করেন। শিখেছেন লোভ সংবরণ করতে। তাই শান্তিপুরের সেই সাধারণ টোটো চালক লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না কুড়িয়ে পেয়েও তা ফেরালেন মালিকের হাতে। 
Advertisement
শান্তিপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর স্ট্রিটের বাসিন্দা রমেশ সরকার। পেশায় টোটো চালক রমেশের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কিন্তু তবুও সততার পথ থেকে বিচ্যুত হননি। সম্প্রতি রাস্তায় টোটো চালানোর সময় তিনি একটি সোনার ব্রেসলেট কুড়িয়ে পান। যার বর্তমানে বাজার মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। শান্তিপুরের সূত্রাগড়ের কাছে তাঁত কাপড়ের হাটের দিন সোনার অলঙ্কার কুড়িয়ে পাওয়ার পরেও রেখেছেন সততার নজির। অন্যান্য টোটো চালকের সঙ্গে কথা বলে দীর্ঘ খোঁজাখুজি করেছেন ব্রেসলেটের প্রকৃত মালিককে। যদিও প্রথমে তাঁদের খোঁজাখুঁজিতে খুব একটা ফল হয়নি।
এদিকে, রবিবার সৌমিত্র কুণ্ডু নামে এক কাপড়ের ব্যবসায়ী সূত্রাগড় হাটের একাধিক দোকানে জিজ্ঞাসা করছিলেন সোনার ব্রেসলেটের কথা। শান্তিপুরেরই ভদ্রকালীর বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী গত সপ্তাহে দোকানের মালপত্র তুলতে এসে হারিয়ে ফেলেছিলেন হাতের ওই সোনার ব্রেসলেট। লোকমুখে সেই খবর পৌঁছয় টোটো চালক রমেশের কাছে। এরপর তিনি ওই ব্যবসায়ীর থেকে উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেন ওই সোনার বহু মূল্য ব্রেসলেট। স্বাভাবিকভাবেই, একজন সাধারণ টোটো চালকের সৎ মানসিকতা প্রশংসিত হয়েছে। 
বিষয়টি নিয়ে সৌমিত্রবাবু বলেন, গত সপ্তাহে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় হাত থেকে খুলে যায় ব্রেসলেটটি। বাড়ি গিয়ে আমার খেয়াল হয় বিষয়টি। তখন বুঝতে পারিনি কোথায় পড়েছিল। এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় জিজ্ঞাসা করেছি। রবিবার হাটে মাল কিনতে এসে এখানকার দোকানগুলিতে যখন জিজ্ঞাসা করছি, তখন জানতে পারলাম রমেশ নামের এক টোটো চালক সেটি পেয়েছেন। উনি আমায় ফেরত দিলেন। সত্যিই ওঁর কাছে কৃতজ্ঞ। সমাজে এরকম মানুষ অনেক দরকার।
সম্পর্কিত সংবাদ