অভিষেক পাল, বহরমপুর: ভারতে মাদক জাল বিস্তারে সৌদিতে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু যুবক রুটি রুজির টানে সৌদিতে কাজ করেন। তাঁদের অভাবী জীবনকে কাজে লাগাচ্ছে আইএসআই। মোটা টাকার টোপ দিয়ে ডি-কোম্পানির মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় নামানো হচ্ছে বলেই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। ভারতে মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে নিজেদের আর্থিক বুনিয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপে টাকা ঢালতে চায় পাকিস্তান। কেননা, পহেলগাঁও পরবর্তী ভারতের সিঁদুর অভিযানে পাক-ভূমে বহু জঙ্গি ঘাঁটি নষ্ট হয়েছে। সেগুলির পরিকাঠামো গড়তে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সেই টাকার দ্রুত সংস্থানে মাদক ব্যবসাই পাকিস্তানের কাছে অন্যতম পথ বলেই মত গোয়েন্দাদের। বিষয়টি নিয়ে সতর্ক ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকেও সতর্ক করেছে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর।
ভারতের পাশাপশি মাদক ব্যবসা ছড়াতে সৌদিও টার্গেট পাকিস্তানের। সেখানে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের মাদক কারবারে যুক্ত করতে মরিয়া আইএসআই। তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এক্ষেত্রে ডি-কোম্পানিকে যাবতীয় সহযোগিতা করতে পাক গুপ্তচর সংস্থা। কর্মরত ভারতীয় যুবকদেরকেও মাদক ব্যবসায় নামানো শুরু হয়েছে। বাংলার বহু যুবক পেটের টানে বছরের পর বছর সৌদিতে কাজ করেন। মোটা বেতনের লোভে মুর্শিদাবাদ থেকেও বহু যুবক সেখানে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছেন এই শ্রমিকরা। কেননা, ডি-কোম্পানির মাদক ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধিতে ভারতীয় শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আইএসআই। এমনটাই মনে করছেন গোয়েন্দারা। জানা গিয়েছে, সৌদিতে বহু পাক নাগরিক অবৈধভাবে বসবাস করছেন। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাঁদেরকেই প্রথম নামানো হচ্ছে মাদক কারবারে। সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে ডি-সিন্ডিকেটে। এভাবে মাদক সাপ্লাইয়ের চেন শক্তিশালী করার পর কর্মরত ভারতীয়দের টোপ দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, অল্পদিনে বড়লোক হওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে ডি-কোম্পানিতে নাম লেখাচ্ছে বহু পরিযায়ী শ্রমিক।
গোয়েন্দাদের দাবি, দশ বছর আগে দাউদের নেটওয়ার্ক আল-কায়েদা এবং বোকো হারামের সঙ্গেই ব্যবসা করেছিল। বেশ কয়েক বছর তাদের গাঁটছড়া ছিল না। এখন নতুন করে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। দু’টি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী এখন বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ডি-কোম্পানিকে মাদক সরবরাহ করছে বলে খবর। তাদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। সেই নেটওয়ার্ককে দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম মাদকের ব্যবসা বিস্তারে কাজে লাগাচ্ছে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আল-কায়েদা এবং বোকো হারাম উভয়েরই ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যাতে তারা বৃহৎ পরিসরে লোক নিয়োগ এবং জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। তাই, দাউদের সিন্ডিকেটের সাথে এই জোট তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এইসব নতুন যুবকদের রিক্রুটমেন্টের মাধ্যমে একাধিক স্তরে মাদক গ্যাং তৈরি করে ভারতের ভিতর মাদক ছড়িয়ে দিতে চাইছে আইএসআই। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কুটুম্বসম। ভারতে মাদক সামগ্রী চালানে এই সম্পর্ক উপরি পাওনা। ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় মাদকের হাব তৈরি করেছে ডি-কোম্পানি। ড্রাগ ক্যারিয়ার দিয়ে খোলা সীমান্ত দিয়ে ভারতে মাদক ঢোকানোর পরিকল্পনা করছে। এই রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদার খোলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে গোটা দেশে। একাধিক ইনপুট পাওয়ার পর সতর্ক বিএসএফও।