নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে কয়েকটা দিন দেরি থাকলেও বাঙালির ভ্রমণের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। টানা ছুটিতে কারও সমুদ্র দেখার পরিকল্পনা থাকে। আবার কেউ পাহাড়ের চূড়ায় সময় কাটাতে যান। হোটেল বুকিংও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সুযোগে সাইবার প্রতারকরা ফায়দা তুলবে না, সেটা তো আর হতে পারে না। তারা প্রতারণার জাল বিছিয়ে দিয়েছে। তাই বিশেষ অফারে হোটেল বুক করার আগে ভ্রমণ পিপাসুদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুলিস আধিকারিকরা। তাঁদের পরামর্শ, বুকিংয়ের পর অগ্রিম পেমেন্ট করার আগে যাচাই করে নিতে হবে। নাহলে ঘুরতে যাওয়ার মজাটাই নষ্ট হয়ে যাবে। অ্যাকাউন্ট সাফ হতেও বেশি সময় লাগবে না। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, অনলাইনে হোটেল বুক করার আগে নিশ্চিত হতে হবে। বিভিন্ন অ্যাপ রয়েছে। তবে, সবগুলিই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুজোর মরশুমে কয়েকদিন আগে থেকেই হোটেল বুকিং শুরু হয়েছে। প্রতারকরা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের নামী হোটেলগুলিকে টার্গেট করে। ওই হোটেলগুলির নামে তারা নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে রেখেছে। তারা নিজেদের ফোন নম্বরও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে রেখেছে। সেই নম্বরগুলিতে পর্যটকরা ফোন করলেই প্রতারকদের পোয়াবারো। অতীতেও অনেকেই হোটেল বুক করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বর্ধমান শহরের বাসিন্দা শঙ্খ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগে থেকে হোটেল বুক না করলে ভালো রুম পাওয়া যায় না। আবার অনলাইনে হোটেল বুক করার ঝুঁকি থাকে। কোনটা আসল ওয়েবসাইট বা কোনটা নকল, তা বোঝা যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ট্যুর অপারেটরদের সাহায্য নিতে হয়। ভ্রমণ পিপাসুরা বলছেন, নিজের রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে ঘুরতে গেলে ট্যুর অপারেটরদের দরকার হয় না। নিজেরাই হোটেল বা গাড়ি বুক করে ঘুরতে যান। তবে কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ বা অন্য রাজ্যগুলিতে ঘুরতে যাওয়ার সময় পর্যটকরা সাধারণত ট্যুর অপারেটরদের সাহায্য নেন। বর্ধমান শহরের এক বাসিন্দা বলেন, পুজোর ছুটিতে কোথাও ঘুরতে গেলে আগে থেকে বুকিং করে না রাখলে হোটেল পাওয়া যায় না। পরিচিত হেটেল থাকলে সমস্যা হয় না। কিন্তু, নতুন কোনও হোটেল বুক করতে গেলে সমস্যা তৈরি হয়। দু’বছর আগে অনলাইনে হোটেল বুক করে আমার এক আত্মীয় সমস্যায় পড়েছিলেন। তিনি ৩৫০০ টাকা অনলাইনে পেমেন্ট করেন। পরে জানতে পারেন, সেই টাকা আদৌ হোটেলের অ্যাকাউন্টে যায়নি। প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। সেই টাকা আর উদ্ধার করা যায়নি।
পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, সাইবার প্রতারকরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ছক কষেছে। কোথাও তথ্য শেয়ার করার বা টাকা দেওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে।