স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: হোয়াটসঅ্যাপে আসা ছবি, ভিডিয়ো, খবরের লিঙ্কেই এখন লুকিয়ে সাইবার ‘থ্রেট’। মিডিয়া কিংবা লিঙ্কের আড়ালে থাকছে ফোন ক্লোনে সক্ষম এপিকে ফাইল। সাইবার অপরাধে যুক্ত সেই এপিকে ফাইলসহ আস্ত ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার (ভিপিএস) বিক্রি চলছে ডার্ক ওয়েবে। কোনো বৈধ কারবার নয়, বিনা নথিতেই অল্প খরচে সেই সার্ভার চলে যাচ্ছে সাইবার প্রতারকদের দস্তানায়। প্রতি সার্ভারের দাম ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা। সার্ভারের স্পেস অনুযায়ী দামের হেরফের। রাজ্য সাইবার পুলিশ সূত্রে খবর, এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত দক্ষিণ ভারতের অসাধু ওয়েব ডেভেলপারদের একটি বড়ো চক্র। ইতিমধ্যেই বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সেই চক্র রাজ্য পুলিশের স্ক্যানারে।
কলকাতা পুলিশের সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর, সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রী সাইবার প্রতারণার শিকার হন। ভুয়ো ‘বাহন’ অ্যাপের লিঙ্কে ক্লিক করতেই তাঁর ফোনের যাবতীয় কন্ট্রোল চলে যায় প্রতারকদের হাতে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যায় টাকা। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর স্ত্রীর মোবাইলও হ্যাক হয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়। এধরনের একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে ঘটেছে শহর কলকাতা। পুলিশের দাবি, এই সমস্ত ক্ষেত্রে মোবাইলে আসা লিঙ্ক, ছবি, ভিডিয়োর আড়ালে থাকছে এপিকে ফাইল। যাতে মোবাইল সম্পূর্ণভাবে প্রতারকদের কন্ট্রোলে চলে যায়।
এহেন কেসের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ। প্রতারকদের কাছে এই সমস্ত ফোন ক্লোনিং এপিকে ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভারের মাধ্যমে বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। অসাধু ওয়েব ডেভেলপাররা অর্থ রোজগারের আশায় এধরনের কারবারে যুক্ত। মুম্বই পুলিশ সূত্রে বেশকিছু তথ্য পেয়েছে এরাজ্যের সাইবার পুলিশ। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ভারতে বেশ কয়েকজন অসাধু ওয়েব ডেভেলপরারের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। ভুয়ো বিদ্যুতের বিলের নামে এপিকে ফাইল পাঠিয়ে ১৭ লক্ষ টাকার একটি প্রতারণা মামলা গ্রেপ্তার করা হয় ওই ওয়েব ডেভেলপারকে। তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার বিক্রির জন্য গ্রাহকের কেওয়াইসি জমা নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু, অসাধু কারবারে তা হচ্ছে না। শুধুমাত্র, ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচেই সেই সার্ভারগুলি কিনছে প্রতারকরা। এই সার্ভারের অপারেটিং সিস্টেম, সিপিইউ, স্টোরেজ স্পেস সবটাই নিজস্ব, যা ট্র্যাক করতে পারবেন না তদন্তকারীরা। এই সার্ভার আদতে ভার্চুয়াল। ফিজিক্যাল কোনো ডিভাইস নেই। তবে কোনো ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার আইপি অ্যাড্রেস মারফত পুলিশের নজরে আসতে পারে এই সার্ভার। রাজ্যে কোনোভাবে দক্ষিণ ভারত থেকে এধরনের সার্ভার কেনাকাটির লেনদেন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।