Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’বছর বাদেও হয়নি কালভার্টের সংস্কার, চরের গ্রামে ক্ষোভ তুঙ্গে

বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল সংযোগকারী কালভার্ট। এরপর কেটে গিয়েছে দুই বছর

দু’বছর বাদেও হয়নি কালভার্টের সংস্কার, চরের গ্রামে ক্ষোভ তুঙ্গে
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছিল সংযোগকারী কালভার্ট। এরপর কেটে গিয়েছে দুই বছর। কিন্তু আজও সংস্কার হয়নি রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের বড়শিমূল পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী চরের সেই  কালভার্ট। বর্তমানে ভাঙা কালভার্টের উপর কংক্রিটের পাটাতন বিছিয়ে তা দিয়েই চলছে যাতায়াত। যে কোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে এতে। যা নিয়ে চিন্তিত কয়েক হাজার চরবাসী। কাজেই দ্রুত কালভার্ট সংস্কারের দাবি তুলছেন বাসিন্দারা। এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই কালভার্টের কাজ শুরু হবে।

Advertisement


রঘুনাথগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের বিডিও মানিক সর্দার বলেন, ইতিমধ্যেই কালভার্টের এস্টিমেট করে জেলা পরিষদে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের তরফে কোনো সাড়া মেলেনি। জেলা পরিষদের সবুজ সঙ্কেত পেলেই কাজ শুরু হবে। 
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই জনপদ ভৌগোলিকভাবে শহর থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। বিএসএফের কড়া নজরদারি পেরিয়ে ও পদ্মা পেরিয়ে তবেই পৌঁছাতে হয় চরের পিরোজপুর ও বাজিতপুর গ্রামে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দু’বছর আগে প্রবল বর্ষায় জলের চাপে কালভার্টটি ভেঙে পড়ার পর থেকেই  ভোগান্তির শুরু হয়। প্রশাসনের দোরে দোরে ঘুরেও সুরাহা মেলেনি। কালভার্টটির মাঝের অংশ কার্যত ধসে গিয়েছে। বাধ্য হয়েই মানুষ পাশের মাঠ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষায় অটো, টোটো ও ট্রাক্টর চলাচলে সমস্যা হত। গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা অংশের ওপর কংক্রিটের আলগা বৈদ্যুতিক পোল বিছিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এখন দুঃস্বপ্ন। মাঠ থেকে ফসল নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় ওই ভাঙা কালভার্ট পেরোতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাষিদের। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়াদের ওই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। 


স্থানীয় বাসিন্দা হারুন শেখ বলেন, দু’বছর থেকেই শুনছি কালভার্টের কাজ হবে। কিন্তু আমাদের কালভার্ট এখনও ঠিক হয়নি। বিএসএফের তল্লাশি আর পদ্মার ঢেউ পেরিয়ে আসার পর এই ভাঙা কালভার্ট আমাদের কাছে মরণফাঁদ। বিডিও থেকে পঞ্চায়েত সবাইকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।
বিএসএফের নিয়মকানুনের কড়াকড়িতে এমনিতেই চরের জনজীবন শ্লথ, তার উপর এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা চরবাসীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বড়শিমূল পঞ্চায়েতের প্রধান আব্দুল হক বলেন, যতদুর জানি কালভার্টের জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছেন। শীঘ্রই কালভার্টের কাজ শুরু হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ