সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরবাসীর জন্য সুখবর। বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) চালু হল সিটি স্ক্যান পরিষেবা। মঙ্গলবার যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এদিন থেকেই পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনামূল্যে মিলবে এই পরিষেবা। ২৪ ঘণ্টা এই পরিষেবা চালু থাকবে। ঝড়বৃষ্টি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও বন্ধ হবে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বোলপুরের গরিব, দুঃস্থ রোগীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
প্রসঙ্গত, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের সিয়ান-মূলক পঞ্চায়েতের নানুর রোডের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল। বহু বছর ধরে এই হাসপাতালেই চিকিৎসা করান বোলপুর সহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষজন। পরবর্তীতে উন্নততর পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে তৈরি হয় সুপার স্পেশালিটি ভবন। ২০১৮ সালে এই নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, হাসপাতালে এক্স রে, ইসিজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ব্লাড টেস্ট, ইউরিন অ্যানালাইসিস, ডায়ালিসিস, ও কনসালটেন্ট বিভাগ চালু থাকলেও সিটি স্ক্যানের সুবিধে ছিল না। এর ফলে রোগীদের বেসরকারি ল্যাবে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে স্ক্যান করাতে হতো।
তবে এবার সেই সমস্যা মিটল রোগীদের। হাসপাতালেই এই সুবিধা চালু হওয়ায় দ্রুত রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করা যাবে। বিভাগের টেকনিশিয়ানরা বলেন, বোলপুরে কোথাও ২৪ ঘণ্টা সিটি স্ক্যান হয় না। তাছাড়া হাসপাতালে যে মেশিনটি বসেছে, তা আধুনিক মানের। এর ছবির মান জেলার যে কোনও বেসরকারি সেন্টারের ছবির থেকে দুই বা তিনগুণ পর্যন্ত ভালো। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিনামূল্যে এই পরিষেবা মিলবে। পাশাপাশি, বেসরকারি হাসপাতালে রোগীরা অর্ধেক মূল্যে পরিষেবা পাবেন। তাঁদের জন্য বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি দেবে। বেসরকারি রোগীদের ক্ষেত্রে আধার কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। আট ঘণ্টার শিফটিংয়ে তিনজন টেকনিশিয়ান এই বিভাগে কাজ করবেন। ফলে, সব সময়ে এই পরিষেবা চালু থাকবে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শুভব্রত ঘোষ বলেন, এটা চালু হওয়াতে খুব ভালো হলো। রোগী ও তাদের পরিবারের উপকার হবে। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অগ্রগতির দিক থেকে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।