Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

অশোধিত তেলের দাম কমেছে ৪১.৫ শতাংশ, আম আদমির সুরাহা নামমাত্র

আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই সমঝোতার অন্যতম শর্ত রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে হবে ভারতকে।

অশোধিত তেলের দাম কমেছে ৪১.৫ শতাংশ, আম আদমির সুরাহা নামমাত্র
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা হয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই সমঝোতার অন্যতম শর্ত রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনা বন্ধ করতে হবে ভারতকে। বিষয়টি নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া থেকে সস্তায় বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে ভারত। কেন্দ্রের দাবি, রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আনার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মুখ চেয়ে। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারেও অশোধিত তেলের দাম ছিল নিম্নমুখী। কিন্তু সত্যিই কি সুরাহা মিলেছে আম আদমির?  সহজ উত্তর, না মেলেনি। তেলের দাম কমার সুবিধা থেকে দেশের আপামর সাধারণ মানুষ যে বঞ্চিত, খোদ সরকারি তথ্য থেকেই তা স্পষ্ট। পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেলের (পিপিএসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমের দাবি, ২০২২ সালের জুন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৪১.৫ শতাংশ। কিন্তু ভারতে পেট্রলের দাম কমছে মাত্র ১.৯ শতাংশ।

Advertisement

পিপিএসি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বেড়ে হয়েছিল ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল। এজন্য এপ্রিলে পেট্রলের দাম প্রটি লিটারে বাড়িয়ে করা হয় ১০৫.১ টাকা। পরের মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কিছুটা চড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের আশপাশে পৌঁছয়। যদিও তখন তেল বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি) ঘরোয়া বাজারে প্রতি লিটারে দাম কিছুটা কমিয়ে করে ৯৬.৭ টাকা। এরপর ২০২৪ সালের মধ্য মার্চ পর্যন্ত টানা ২১ মাস তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখে বিপণন সংস্থাগুলি। ২০২২ সালের জুনে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে বিদেশের বাজার থেকে তেল কিনতে হয়েছিল ১১৬ ডলার প্রতি ব্যারেল দামে। পরে  দাম কমতে কমতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড়ে তা হয় ৬৭.৯ ডলার। অর্থাৎ এই পর্বে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে প্রায় ৪১.৫ শতাংশ। অথচ, তার সুরাহা মেলেনি দেশের বাজারে। কারণ এই সময়ের মধ্যে ঘরোয়া বাজারে তেলের দাম নামমাত্র কমে হয় ৯৪.৮ টাকা প্রতি লিটার। অর্থাৎ দাম ১.৯ শতাংশ কমে। ২০১৭ সালে ‘ডায়নামিক প্রাইস’ বা আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি বা হ্রাসের নিরিখে প্রতিদিন দাম বাড়া-কমার যে নীতি গৃহীত হয়েছিল, তাকে আচমকাই ঠুঁটো করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আর তার ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার সুরাহা থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। 
সংসদে এবিষয়ে একাধিকবার তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপর দায় চাপিয়ে দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেছে কেন্দ্র। তাদের বক্তব্য, দাম নির্ধারণের বিষয়ে তেল সংস্থাগুলি স্বাধীন। যদিও এর ফল সাধারণ মানুষকেই ভুগতে হচ্ছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ