Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোপীবল্লভপুরে রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরে জগন্নাথদেবের স্থানযাত্রায় ভিড় উপচে পড়ল

বুধবার সন্ধ্যেবেলায় মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভাদ্রার স্নানযাত্রা দেখতে ভিড় জমান অগণিত ভক্ত।

গোপীবল্লভপুরে রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরে জগন্নাথদেবের স্থানযাত্রায় ভিড় উপচে পড়ল
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বৈষ্ণবদের আদি তীর্থভূমি গোপীবল্লভপুর। এখানে শতাব্দী প্রাচীন রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দিরে গঙ্গা, যমুনা ও সুবর্ণরেখা নদীর জল এনে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব পালন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যেবেলায় মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভাদ্রার স্নানযাত্রা দেখতে ভিড় জমান অগণিত ভক্ত। এদিন জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রাকে প্রথমে হলুদ, চন্দন, ঘি, মধু মাখানো হয়। তারপর দুধ, দই, ডাবের জল দিয়ে গা ধোয়ানো হয়। সর্বশেষ গঙ্গা, যমুনা ও সুবর্ণরেখা নদীর জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। তারপর বিগ্ৰহকে বস্ত্র পরানো হয়। ফুল মালায় সাজানো হয়। স্নানের পর কাঁপুনি দিয়ে জগন্নাথদেবের জ্বর আসে। জ্বর ছাড়লে নবযৌবন উৎসব পালন করা হয়। 

Advertisement

কথিত আছে, বৈষ্ণবাচার্য শ্যামানন্দ বয়সের ভারে একবার পুরীধামে রথযাত্রায় যেতে পারেননি। এরপর জগন্নাথদেবের স্বপ্নাদেশে তিনি এখানে রথযাত্রার প্রচলন করেন। শ্যামানন্দকে নিয়ে নানা জনশ্রুতি আছে। শ্যামানন্দ রচিত ‘অদ্বৈততত্ত্ব‘(অদ্বৈত প্রভুর প্রতি মাধবেন্দ্র পুরীর উপদেশ), ‘উপাসনা সার’ ও ‘বৃন্দাবন পরিক্রমা’ বৈষ্ণব ভক্তদের কাছে পবিত্র গ্ৰন্থ হিসেবেই বিবেচিত হয়। তাঁরই প্রিয় শিষ্য ধর্মপ্রাণ শ্রীরসিকানন্দ রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দির নির্মাণ করেন। এই মন্দিরের সামনে একাধিক ছোট রাসমন্দির রয়েছে। স্নানযাত্রা, রথযাত্রা, রাসযাত্রা, ঝুলন পূর্ণিমা, দণ্ডমহোৎসব অনুষ্ঠান দেখতে ভক্তরা এখানে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন্ত মহন্তী বলেন, এই স্থান বৈষ্ণবদের আদি তীর্থভূমি। ওড়িশার পুরীর রথযাত্রার বড় প্রভাব এখানে রয়েছে। এদিন সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম হয়েছে। সন্ধ্যের সময় স্নানযাত্রা উৎসব দেখতে সহস্রাধিক মানুষ ভিড় করেন।। 
বছর পঞ্চাশের সুমিত্রা রাউত বলেন, প্রতিবার স্নানযাত্রা উৎসবে এখানে আসি। স্নানযাত্রা দেখলে পরিবারের মঙ্গল হয়। মন্দির কমিটির সম্পাদক কল্যাণ বারিক বলেন, গঙ্গা, যমুনা থেকে প্রতিবারের মতো এবারও ঘটে করে জল আনা হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদী থেকে সকালে প্রথা মেনে জল আনা হয়েছে। সন্ধ্যেবেলায় ধর্মীয় রীতি মেনে স্নানযাত্রা উৎসব পালন করা হয়েছে। ভক্তরা প্রসাদও পেয়েছেন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ