Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দৃষ্টিহীনদের ফুটবল দেখতে উপচে পড়া ভিড় বিষ্ণুপুরে

এই প্রথম দৃষ্টিহীনদের ফুটবল খেলা দেখতে রবিবার বিষ্ণুপুর স্টেডিয়ামে উপচে পড়ল ভিড়।

দৃষ্টিহীনদের ফুটবল দেখতে উপচে পড়া ভিড় বিষ্ণুপুরে
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এই প্রথম দৃষ্টিহীনদের ফুটবল খেলা দেখতে রবিবার বিষ্ণুপুর স্টেডিয়ামে উপচে পড়ল ভিড়। এদিনের প্রতিযোগিতায় কলকাতা, দার্জিলিং, কোচবিহার ও পূর্ব মেদিনীপুর এই চারটি দল অংশ নেয়। ফাইনালে বিজয়ী এবং বিজিত দলকে ট্রফি এবং আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। দৃষ্টিহীনদের ফুটবল এ জেলায় এই প্রথম। প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ, পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গোস্বামী প্রমুখ। এছাড়াও বিষ্ণুপুর মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন পদাধিকারিরাও ছিলেন। 

Advertisement

মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বরুণকুমার দে বলেন, রাঢ়বঙ্গে দৃষ্টিহীনদের ফুটবল প্রতিযোগিতা এর আগে হয়নি। আয়োজক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার পর আমরাই প্রথম ওই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। তাতে খুব ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে। 
বিধায়ক বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁরা কোনও অংশে কম নন। তাঁদের উৎসাহিত করতে এবং সমাজের কাছে বার্তা দিতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খেলা দেখে আমরাও অভিভুত।  
ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি রবীন্দ্রনাথ পাত্র এবং সংস্থার ফুটবল বিভাগের সম্পাদক চন্দ্রমোহন দে বলেন, দৃষ্টিহীন ফুটলারদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষিত। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি চাকরিও করেন। তাঁরা বিদেশেও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। 
সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিষ্ণুপুর স্টেডিয়ামে বেঙ্গল প্রমিসিং স্টার ব্লাইন্ড ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি ২০২৫ প্রতিযোগিতা হয়। তাতে মোট চারটি দল অংশ নেয়।  প্রতিটি দলে ৬ জন করে খেলোয়াড় ছিলেন। খেলার মাঠও ছোট। দৈঘ্যে ৪২ মিটার এবং প্রস্থে ২০ মিটার। মাঠের চারধারে আড়াই ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট প্লাইউডের বেড়া দেওয়া হয়। খেলায় কোনও আউট ছিল না। বেড়ায় ধাক্কা খেয়ে বল নিজের গতিতে পুনরায় মাঠে ফিরে এলে খেলা চলতে থাকে। খেলোয়াড়রা মূলত বলে থাকা বিশেষ ঘণ্টার আওয়াজ শুনে খেলেন। গোলপোষ্টের উচ্চতা ৭ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭ ফুট। খেলার সময় পোস্টের পিছনে দু’জন ইনস্ট্রাকটার ছিলেন। তাঁদের বিশেষ সংকেতের উপর ভিত্তি করে খেলোয়াড়রা গোলে লক্ষ্যভেদ করেন। এরকম অভিনব খেলা দেখতে দর্শকের ভিড় উপচে পড়ে। গোল হতেই দর্শকদের হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। চারটি 
দল নিয়ে নক আউট পর্যায়ের খেলা হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ