


সংবাদদাতা, কাঁথি: বছর শেষে পর্যটকদের থিকথিকে ভিড় সৈকতশহর দীঘায়। ভিড়টা শুরু হয়েছে বড়দিন থেকে। আর মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর থেকে দীঘায় শুরু হয়ে গেল দু’দিনব্যাপী বিচ ফেস্টিভ্যাল। এদিন ওল্ড দীঘার সৈকতাবাস প্রাঙ্গণে জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবের সূচনা হয়। পর্যটকদের আনন্দ দিতে উপস্থিত একঝাঁক শিল্পী। পাশাপাশি আজ, ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের সন্ধিক্ষণে রাত ১২টায় আতশবাজি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন পর্যটকরা। দীঘায় প্রচুর পর্যটক এমন মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পথে নামবেন। যা তাঁদের কাছে বাড়তি পাওনা। ইতিমধ্যেই হোটেলগুলি আলোর মালায় সেজে উঠতে শুরু করেছে। দীঘা, মন্দারমণির হোটেলে ডিজে নাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্ষবরণের রাতে এবং ইংরেজি নববর্ষের ভিড়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দীঘার পাশাপাশি মন্দারমণি, তাজপুর ও শংকরপুর পর্যটন কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোনও পর্যটক বেড়াতে এসে কোনও সমস্যা কিংবা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হলে জেলা পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (৭০৪৭৯৮৯৮০০) অভিযোগ জানাতে পারবেন। দীঘার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যেমন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়েছে, তেমনি বেড়াতে আসা পর্যটকদের লিফলেট দেওয়া হচ্ছে পুলিশের তরফে। উল্লেখ্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দীঘার ভিড়ের ছবিটা আলাদা। কারণ আগে ছিল শুধুমাত্র সমুদ্রদর্শন। এখন যোগ হয়েছে জগন্নাথ দর্শন। মূলত দীঘায় ভিড় বাড়ার পিছনে জগন্নাথ মন্দিরের আকর্ষণ অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন হোটেল মালিক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নতুন বছরে দীঘায় সূর্যোদয়ের সাক্ষী হতে চান অনেকেই। আবার অনেকে জগন্নাথদেবকে পুজো দিয়ে নতুন বছর শুরু করতে চান। তাই এই ক’টা দিন যে ভিড় ব্যাপক থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
দীঘা-শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্ত পাত্র বলেন, ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ওল্ড ও নিউ দীঘার সমস্ত হোটেলে বুকিং হয়ে গিয়েছে। যেসব হোটেলের ঘর বাকি রয়েছে, সেগুলিও পূরণ হয়ে যাবে। ঘর পাওয়া নিয়ে পর্যটকদের কোনও সমস্যা হবে না বলেই আমরা আশাবাদী। পর্যটকদের সুবিধার্থে দীঘায় সহস্রাধিক হোটেল পরিষেবা দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে দীঘায় বেশকিছু ঝাঁ চকচকে হোটেল তৈরি হয়েছে। সেখানে আধুনিক ও উন্নতমানের পরিষেবা পাচ্ছেন পর্যটকরা।