Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার উপচে পড়া ভিড়, তারকেশ্বরে ভক্তদের ঢল

এদিন ছিল শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। স্বভাবতই আর পাঁচটা বছরের মতো এদিনও তারকেশ্বরে উপচে পড়েছিল ভক্তদের ভিড়।

শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার উপচে পড়া ভিড়, তারকেশ্বরে ভক্তদের ঢল
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এদিন ছিল শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। স্বভাবতই আর পাঁচটা বছরের মতো এদিনও তারকেশ্বরে উপচে পড়েছিল ভক্তদের ভিড়। আন্দাজ, লক্ষাধিক মানুষ তো হবেই! রবিবার থেকেই ভক্ত সমাগম শুরু হয়েছে এই তীর্থস্থানে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রচুর পুলিস মোতায়েন করেছে প্রশাসন। 

Advertisement

তবে এদিন সকালে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার জন্য এমনিতেই তারকেশ্বর স্টেশন ছিল ভি঩ড়ে ঠাসা। তার উপর শ্রাবণের প্রথম সোমবার হওয়ায় শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢালার ভিড়। দুইয়ে মিলিয়ে লোকারণ্য তারকেশ্বর। ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিসকে। এদিকে, বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত রাস্তা ‘নো এন্ট্রি’ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে তীর্থযাত্রীদের ওই পথ ধরে হেঁটে বা টোটোতে পৌঁছতে হয়েছে মন্দিরে। 
মেলাকে কেন্দ্র করে বৈদ্যবাটির নিমাই তীর্থ ঘাট থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত অসংখ্য ছোট-বড় অস্থায়ী দোকান তৈরি হয়েছে। বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে জল, খাবার ও চিকিৎসা পরিষেবা দিয়েছে। এদিকে, অন্যান্যবার যে পথ দিয়ে পুণ্যার্থীরা মন্দিরে যান, এবার তাতে সামান্য রদবদল করেছে প্রশাসন। মহিলাদের ওই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হলেও পুরুষদের ঘুরপথে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়েছে। পুজো দেওয়ার পরে দুধ পুকুরের উত্তরদিকে গেস্ট হাউসের পাশের রাস্তা ধরে পৌঁছতে হচ্ছে স্টেশন অথবা বাস স্ট্যান্ডে। ফলে পুণ্যার্থীরা আগের জায়গায় অর্থাৎ প্রসাদের দোকানে আর ফিরতে পারছেন না। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। এবার তারকেশ্বর স্টেশনের পাশে কোনও অস্থায়ী দোকান করতে দেওয়া হয়নি। ফলে ভাতের হোটেলগুলির উপরও কোপ পড়েছে। যেকারণে যাত্রীদের খাওয়া দাওয়ার সমস্যা হয়েছে। 
এই বছর শ্রাবণী মেলা শুরু হয়েছে আষাঢ় মাসের গুরু পূর্ণিমা থেকে। চলবে রাখি পূর্ণিমা পর্যন্ত। এই সময় পুণ্যার্থীরা মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারেন না। চোঙার মাধ্যমে জল ঢালতে হয় শিবের মাথায়। তবে অন্যান্য বছরের মতো সারারাত লাইন দিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে না পুণ্যার্থীদের। স্পেশাল লাইনে জল ঢালা শুরু হচ্ছে রাত আড়াইটে থেকে। ভোর চারটের সময় মঙ্গলারতির পর খুলছে সাধারণ লাইন। মেলা উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে হুগলি গ্রামীণ পুলিস জেলার পক্ষ থেকে। রয়েছে মহিলা ও সাদা পোশাকের পুলিস। দুধ পুকুরে স্পিড বোট নিয়ে তৎপর বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকেও একাধিক শিবির করা হয়েছে।
তারকেশ্বরের পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু বলেন, পুরসভার পক্ষ থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে ২৪ ঘণ্টা জলের ব্যবস্থা। পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা সদা সতর্ক রয়েছেন। সাফাই কর্মীরা দিন-রাত এক করে সাফাইয়ের কাজ করছেন।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ